ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল যৌথ বাহিনীর মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাত নিরসনে তিনটি সুনির্দিষ্ট শর্ত ঘোষণা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধের অবসান সম্ভব নয়। এক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, ইরান শান্তি চায় তবে তা অবশ্যই ন্যায়বিচার এবং জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তিতে হতে হবে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ঘোষিত শর্তসমূহ:
১. বৈধ অধিকারের স্বীকৃতি: প্রথম শর্ত হিসেবে তিনি ইরানের ‘বৈধ অধিকার’ আন্তর্জাতিকভাবে এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার অধিকার অন্তর্ভুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২. ক্ষতিপূরণ প্রদান: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যৌথ বাহিনীর হামলায় ইরানে যে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য উপযুক্ত আর্থিক ও রাজনৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।
৩. নিরাপত্তার নিশ্চয়তা: ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানো হবে না—এই মর্মে একটি শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা প্রদানের শর্ত দিয়েছেন পেজেশকিয়ান।
পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও আত্মরক্ষার প্রশ্নে তারা কোনো আপস করবে না। তিনি ইতোমধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে এই শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং আঞ্চলিক শান্তির পক্ষে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল এখন পর্যন্ত ইরানের এই প্রস্তাবের ওপর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সূত্র : আল-জাজিরা।



















