দেশে আমন, বোরো ও আউশ—তিন মৌসুমেই ধানের রেকর্ড ফলন এবং সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না। গত এক মাসের ব্যবধানে সাধারণ মানের চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা বাড়লেও সুগন্ধি চিনিগুঁড়া চালের দাম বেড়েছে আকাশছোঁয়া, যা কেজিতে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানীর পাইকারি বাজারগুলোতে চালের বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ায় খুচরা বাজারে সাধারণ ভোক্তাদের নাভিশ্বাস উঠছে। বর্তমানে খুচরায় মোটা চাল ৬০ টাকা এবং মিনিকেট বা নাজিরশাইল ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্য ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে চরম সংকটে পড়েছে।
[Image showing high-quality rice sacks in a warehouse and a retail market display with price tags]
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে আমনের ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে হেক্টরপ্রতি গড়ে ১৪০ কেজি বেশি ধান উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমানে সরকারি গুদামে ২১ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে এবং বেসরকারি পর্যায়েও আমদানি অব্যাহত আছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, রপ্তানির সুযোগ এবং সরকারি ধান সংগ্রহ অভিযানের কারণে খোলা বাজারে সরবরাহ কিছুটা কমেছে, যার প্রভাবে দাম বেড়েছে। তবে ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব-এর মতে, রেকর্ড ফলন ও পর্যাপ্ত মজুতের মাঝে এই মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিক। মিলগেট থেকে পাইকারি বাজার পর্যন্ত সঠিক তদারকির অভাবেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চালের বর্তমান বাজার চিত্র (প্রতি কেজি)
| চালের ধরন | বর্তমান খুচরা মূল্য (টাকা) | গত মাসের তুলনায় বৃদ্ধি |
| মোটা স্বর্ণা চাল | ৬০ টাকা | ৩-৫ টাকা |
| মিনিকেট/নাজিরশাইল | ৮৮-৯০ টাকা | ৩-৪ টাকা |
| সুগন্ধি চিনিগুঁড়া (খোলা) | ১৫৫-১৬০ টাকা | ৩০-৪০ টাকা |
| চাষি চিনিগুঁড়া (প্যাকেট) | ১৭০-১৭৫ টাকা | ৩৫-৪০ টাকা |


















