জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে বিশ্বের ৩৯টি দেশের নাগরিকদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত কঠোর অভিবাসন বিধিনিষেধকে অবৈধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত. স্থানীয় সময় শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসির ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক জন ম্যাককনেল এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন. আদালতের এই রায়ের ফলে দীর্ঘ আইনি অনিশ্চয়তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে এবং আটকে থাকা হাজার হাজার অভিবাসন আবেদন পুনরায় সচল হওয়ার পথ সুগম হয়েছে.
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়
আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ওয়াশিংটনে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন তড়িঘড়ি করে এই বিধিনিষেধগুলো আরোপ করেছিল. সরকারের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে নির্দিষ্ট ৩৯টি দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক আশ্রয়, গ্রিন কার্ড, কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট) এবং নাগরিকত্বসংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবেদনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ আটকে ছিল.
রায় প্রদানকালে বিচারক জন ম্যাককনেল স্পষ্ট করে বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর এই ঢালাও পদক্ষেপ বহু বৈধ অভিবাসীকে চরম আইনি অনিশ্চয়তায় ফেলেছে এবং তাদের স্বাভাবিক জীবন-জীবিকাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে. তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো কেবল জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়া স্থগিত করে রেখেছে, যার পেছনে আবেদনকারীদের নিজস্ব কোনো দোষ বা ত্রুটি ছিল না.
মানবিক সংকট ও প্রশাসনের যুক্তি খণ্ডন
শুনানিতে বিচারক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের কারণে ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে অনেক অভিবাসী বৈধভাবে কাজ করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন. যদিও ট্রাম্প প্রশাসন আদালতে জোরালো দাবি করেছিল যে, দেশের সার্বিক জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এই কড়া বিধিনিষেধের প্রয়োজন ছিল, তবে আদালত সরকারের সেই যুক্তি কঠোরভাবে সমালোচনা করে তা প্রত্যাখ্যান করে.
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ৩6টি দেশের অধিকাংশই আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের. এর আগে চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসেও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক অভিনব সিদ্ধান্তে বিশ্বের প্রায় ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আংশিকভাবে স্থগিত করেছিল, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা হয়.
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা



















