বাসা ও যানবাহনের প্রস্তুতি সম্পন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) শপথ নিতে যাচ্ছে নতুন সরকার। এই মাহেন্দ্রক্ষণকে সামনে রেখে আজ সোমবার সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান জানিয়েছেন, নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য ইতিমধ্যে ৩৭টি সরকারি বাসভবন পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর (রোলস-রয়েস ও ল্যান্ডক্রুজারসহ) মোট ৫০টি গাড়ি ধোয়ামোছা ও যান্ত্রিক পরীক্ষা শেষে প্রস্তুত রেখেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে তাঁদের গাড়ি জমা দিয়েছেন এবং বাসভবন ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
কেমন হতে পারে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা? যদিও নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন তার আনুষ্ঠানিক কোনো তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবল গুঞ্জন ও বিশ্লেষণ চলছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর মতে, এবারের মন্ত্রিসভা হবে ৩৫ থেকে ৩৭ সদস্যের। এর মধ্যে পূর্ণ মন্ত্রী থাকতে পারেন ২৬-২৭ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ৯-১০ জন। প্রবীণ ও নবীনের মিশেলে গঠিত হতে যাওয়া এই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি তরুণ ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে।
- সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ মুখ: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (পররাষ্ট্র বা স্বরাষ্ট্র), আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (পররাষ্ট্র বা বাণিজ্য), সালাহউদ্দিন আহমদ (আইন বা তথ্য), এবং ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন (স্বাস্থ্য)।
- জোটসঙ্গীদের উপস্থিতি: মিত্র দলগুলোর মধ্য থেকে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ (বিজেপি), জোনায়েদ সাকি (গণসংহতি আন্দোলন) এবং নুরুল হক নুরের (গণ অধিকার পরিষদ) নামও আলোচনায় রয়েছে।
শপথের সময়সূচি ও স্থান জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী:
- সকাল ১০:০০টা: জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন।
- বিকেল ৪:০০টা: সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে এবং তাঁর মন্ত্রিসভাকে শপথ পাঠ করাবেন। ইতিমধ্যেই ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ ১৩টি দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধি এবং প্রায় এক হাজার দেশি-বিদেশি অতিথিকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য কাঠামো (এক নজরে):
- আকার: ৩৫-৩৭ জন।
- বিভাগ: পূর্ণ মন্ত্রী (২৬-২৭), প্রতিমন্ত্রী (৯-১০)।
- প্রধান লক্ষ্য: সুশাসন নিশ্চিত করা ও জাতীয় ঐক্যের প্রতিফলন ঘটানো।



















