মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিশাল এক ‘ব্লু ওয়েভ’ বা নীল ঝড়ের সাক্ষী হলো বিশ্ব। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক নানা সংকটে ক্ষুব্ধ মার্কিন ভোটাররা বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়ে রায় দিয়েছেন। এর ফলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ—সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকান পার্টি। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটরা নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে প্রায় ২৪০টি আসন নিশ্চিত করে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে উচ্চকক্ষ সিনেটেও ডেমোক্র্যাটরা ৫৪টি আসন পেয়ে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে।
এই নির্বাচনী বিপর্যয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছরের শাসনকাল ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে এসেছে। কংগ্রেসের দুই কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের এই নিয়ন্ত্রণ হোয়াইট হাউসের জন্য নতুন সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিয়েছে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসন চাইলেই একক সিদ্ধান্তে কোনো বাজেট বা আইন পাস করতে পারবে না; এমনকি ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন সংসদীয় কমিটিগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত এবং অভিশংসন প্রক্রিয়া জোরদার করার পূর্ণ ক্ষমতা লাভ করেছে। এছাড়া টেক্সাস, ওহাইও ও ক্যানসাসের মতো ঐতিহ্যবাহী রিপাবলিকান ঘাঁটিতেও ডেমোক্র্যাটরা জয় পেয়েছে। অন্যদিকে মিশিগান থেকে বিজয়ী হয়ে আবদুল এল-সাঈদ মার্কিন ইতিহাসের প্রথম মুসলিম সিনেটর এবং জর্জিয়ায় কিশা ল্যান্স বটমস প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হিসেবে ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছেন।


















