সোমবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

এক কাপ চায়ের জন্য নিভে গেল ১০ প্রাণ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনায় রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বাঁশ, কাঠ ও ছন দিয়ে তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে জরুরি নির্গমন পথ ছিল না বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। রান্নাঘর ও ডিজেলচালিত জেনারেটর কক্ষের মাঝখানে থাকা একমাত্র কাঠের সিঁড়িটি আগুনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় ওপরের তলার পর্যটকদের বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, রিসোর্টটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, ফায়ার অ্যালার্ম ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি ছিল। আগুনের সূত্রপাত, বিস্তার এবং প্রাণহানির কারণ খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান বলেন, রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি রয়েছে এবং তারা দায় এড়াতে পারে না। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সুপারিশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক লে. কর্নেল আজাদ আনোয়ার জানান, রিসোর্টটিকে আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। গত জুনে পরিদর্শনের পর নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছিল না এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ও ফায়ার অ্যালার্মসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি ছিল।

চায়ের পানি বসিয়ে বাইরে চলে যান ওয়েটার

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৬টার দিকে রিসোর্টের ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম সুমন ওয়েটার কপিলকে চা তৈরির নির্দেশ দেন। এরপর গ্যাসের চুলায় পানি বসিয়ে বাইরে চলে যান কপিল। প্রায় এক ঘণ্টা পর পানি শুকিয়ে পাতিল অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। পরে গ্যাস সিলিন্ডার বা এর সংযোগে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

রিসোর্টের রান্নাঘরের পাশেই ছিল জেনারেটরের জন্য ডিজেল রাখার কক্ষ। আগুন সেখানে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তবে আগুনের সুনির্দিষ্ট সূত্রপাত ও বিস্ফোরণের কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় যুবক মো. জালাল বলেন, রান্নাঘর ও জেনারেটর কক্ষের মাঝখানেই ছিল রিসোর্টের একমাত্র সিঁড়ি। তাঁর দাবি, ওপরের তলায় থাকা পর্যটকদের নিচে নামার বিকল্প পথ ছিল না। আগুন লাগার সময় রিসোর্টের ওপরের তলায় ২৬ জন এবং নিচতলায় ২৭ জন ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডিজেল মজুত ও সিঁড়ির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন

রিসোর্টের পাশের মফিজ স্টোরের মালিক মুফিজুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, জেনারেটর চালানোর জন্য সেখানে প্রচুর ডিজেল মজুত রাখা হতো। সম্প্রতি বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে ডিজেলের পরিমাণ আরও বাড়ানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। বিস্ফোরণের পর চার থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে আগুন পুরো রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়ে বলেও জানান তিনি।

মুফিজুর রহমান বলেন, আগুন লাগার পরপরই তিনি ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করেন। তবে তাঁর দাবি, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় নেন। উদ্ধার কার্যক্রমের সময়রেখা ও জরুরি সেবার সাড়া দেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

রিসোর্টটি পরিদর্শনের সময় প্রতিবেদক দেখতে পান, ভবনটির উত্তর-পূর্ব পাশে ছিল রান্নাঘর ও জেনারেটর কক্ষ। মাঝখানে থাকা কাঠের সিঁড়ি দিয়েই পর্যটক ও কর্মীদের ওঠানামা করতে হতো। বাঁশ, কাঠ ও ছনের মতো দাহ্য উপকরণে তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভবনটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগুনের ভিডিওতে আতঙ্ক ও উদ্ধার তৎপরতা

অগ্নিকাণ্ডের শুরুর দিকের কয়েকটি ভিডিও বাংলাদেশ প্রতিদিনের হাতে এসেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ৪ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে প্রথমে আগুনের তীব্রতা তুলনামূলক কম থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যে তা ভয়াবহ রূপ নেয়। আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি রিসোর্টের বাসিন্দাদের দ্রুত সরে আসার জন্য চিৎকার করেন এবং ভেতরে আর কেউ আছেন কি না, তা জানতে চান।

ভিডিওতে রাস্তায় মানুষের ছোটাছুটি এবং কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসার দৃশ্যও দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরেকটি ভিডিওতে ভবনজুড়ে আগুনের শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া দেখা যায়।

টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন—নিরাপত্তার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে রিসোর্টটি চালু ছিল, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে ঘটেছিল এবং পর্যটকদের নিরাপদে বের হওয়ার ব্যবস্থা কেন ছিল না। তদন্ত শেষে এসব বিষয়ে দায় নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

চলতি মাসেই ২০০ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বিএনপি

রিয়াদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

‘হ্যাঁ-না ভোট বোঝানো বড় চ্যালেঞ্জ’—তথ্য সচিব

নবীকে কটূক্তি করায় ছাত্রলীগ কর্মী গ্রেপ্তার ২

৩০ অক্টোবরের পর অতিরিক্ত সিম বন্ধ করবে বিটিআরসি

ভয়েস অব আমেরিকায় ট্রাম্প প্রশাসনের ছাঁটাই অভিযানে ৫০০ কর্মী চাকরিচ্যুত

গাড়ি চলে দেশে হুন্ডি দিয়ে টাকা যায় বিদেশে

জাতীয় বিশ্বাসঘাতকদের সন্ধানে ইরানের অভিযান: ৫ ইসরায়েলি গুপ্তচর আটক

জবানবন্দি: মা-বাবা ও বোনকে হত্যার পর আমিরের অপেক্ষায় ছিল ঘাতক

নির্বাচিত সরকারের পথকে মসৃণ রাখাই আমাদের দায়িত্ব : খাদ্য উপদেষ্টা