ইতালির রোমে একই পরিবারের তিন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার পর সব আলামত মুছে বড় ছেলেকেও খুনের অপেক্ষায় ঘরেই ওত পেতে ছিল ঘাতক। কাজ শেষে বাসায় ফিরে খাটের নিচে মা ও বোনের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান ওই পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য আমির উদ্দিন অয়ন (২০)। এর পরপরই ঘরে লুকিয়ে থাকা ঘাতক তার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইতালীয় পুলিশের কাছে দেওয়া আমিরের এমন চাঞ্চল্যকর জবানবন্দিতে এই ট্রিপল মার্ডার মামলার তদন্তে এক নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রধান সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে (৪৩) গ্রেপ্তারে ইতালির পুলিশ তাদের চিরুনি অভিযান আরও জোরদার করেছে।
খাটের নিচে বোনের পা ও মৃত্যুর মুখ থেকে আমিরের ফিরে আসা
রোমের ভিয়া মন্টিগ্লিও এলাকার ৩৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাটে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। পলিক্লিনিকো জেমেলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আমির তদন্তকারীদের জানান, ঘটনার দিন কাজ শেষে তিনি যখন বাসায় ফেরেন, তখন প্রথম দেখায় পুরো ঘরটি একদম গোছানো মনে হয়েছিল। কিন্তু মা-বাবার ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ খাটের নিচ থেকে ছোট বোন আরাওয়ার একটি পা বেরিয়ে থাকতে দেখে তিনি থমকে যান। পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে—আমির এটি বুঝতে পারার মুহূর্তেই আগে থেকে ওত পেতে থাকা শাহাদাত একটি ধারালো চাপাতি নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রাণপণ ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আমির ঘর থেকে ছিটকে করিডোরে বেরিয়ে আসেন এবং কোনোমতে নিজের জীবন রক্ষা করেন। পরে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় ভবনের সামনে থেকে উদ্ধারকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
আলামত গোপন ও হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য নেপথ্য কারণ
তদন্তকারীদের ধারণা, তিনজনকে নৃশংসভাবে জবাই করার পর ঘাতক শাহাদাত বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় নিয়ে পুরো বাসা পরিষ্কার করে এবং মেঝের রক্তের দাগ ধুয়ে মুছে ফেলে। এরপর নিহত বাবা কামাল উদ্দিনের মরদেহ সোফা ও দেয়ালের মাঝখানের সরু জায়গায় এবং মা জাহানারা ও ছোট বোন আরাওয়ার মৃতদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। মূলত আমিরকে হত্যা করে পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যেই সে আলামত গোপন করে সেখানে অপেক্ষা করছিল। হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে আমির পুলিশকে জানান, শাহাদাতের বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বাবা কামাল উদ্দিন তাকে নিজেদের পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখতে চেয়েছিলেন। এছাড়া গত সপ্তাহে শাহাদাতের সঙ্গে আমিরের তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়েছিল। আমিরের মা ও শাহাদাতের মধ্যে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল কি না, তা নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে গুঞ্জন থাকলেও পুলিশ জানিয়েছে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।



















