যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি বন্দুক হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডগলাস শহরে একটি বাড়িতে গুলিতে পাঁচজন এবং পেনসিলভানিয়ার এরি শহরে আরেক হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন নয়জন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও এক অন্তঃসত্ত্বা নারী রয়েছেন।
স্কাই নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় জর্জিয়ার ডগলাস শহরের একটি বাড়িতে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। গুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তবে হামলার কারণ ও সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
একই সন্ধ্যায় পেনসিলভানিয়ার এরি শহরে ঘটে আরেকটি প্রাণঘাতী বন্দুক হামলা। এতে হামলাকারীসহ মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী রয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীসহ সংশ্লিষ্ট নয়জনের মৃত্যু হয়েছিল।
এরি শহরের পুলিশ প্রধান রিক লোরাহ বলেন, হামলার উদ্দেশ্য এখনো জানা যায়নি। ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে তিনি জানান, সন্দেহভাজন হামলাকারীও মারা গেছেন। এ ছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো হুমকি নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মাইক্রোফোনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গুলির শব্দ শনাক্ত করতে সক্ষম ‘শটস্পটার’ প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশকে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে প্রযুক্তিটি কীভাবে এ ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, তিনি এরির মেয়রের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক ব্যক্তির গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাকে সাধারণভাবে ‘ম্যাস শুটিং’ বলা হয়। তবে এ ধরনের ঘটনার কোনো সর্বজনস্বীকৃত সংজ্ঞা নেই। বিভিন্ন সংস্থা নিহত বা আহত মানুষের সংখ্যা এবং হামলার পরিস্থিতি বিবেচনায় ভিন্ন ভিন্ন সংজ্ঞা ব্যবহার করে।
পরপর দুটি হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হামলাগুলোর উদ্দেশ্য এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: স্কাই নিউজ


















