পবিত্র মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিষয়ে বাংলাদেশের কোনো আপস নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।
একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ককে শুধু শ্রমিক পাঠানো ও রেমিট্যান্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তি সহযোগিতার দিকে এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত একটি সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
মক্কা প্যাক্টে ইতিবাচক অবস্থানের ইঙ্গিত
মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা মুসলিম দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মক্কা ও মদিনা যে অঞ্চলে অবস্থিত এবং যেখানে বিপুলসংখ্যক মুসলমানের বসবাস, সেই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা জাতিসংঘসহ বিশ্বব্যাপী কাজে লাগানো সম্ভব। শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মক্কা প্যাক্টের উদ্যোগ বা জোট নিয়ে ইতিবাচকভাবে চিন্তা করতে বাংলাদেশের কোনো সমস্যা নেই।
মক্কা প্যাক্টে যোগদানের বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কোনো আমন্ত্রণ বা প্রতিক্রিয়া এসেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তিনি আগেই উত্তর দিয়েছেন।
সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক বহুমাত্রিক করার উদ্যোগ
সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, আগে দুই দেশের সম্পর্ক মূলত শ্রমিক পাঠানো ও রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন সেই সম্পর্ককে আরও আধুনিক ও বহুমাত্রিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঐতিহ্যগত শ্রমবাজারকেন্দ্রিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে জ্বালানি, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানো হবে। দক্ষ ও পেশাদার জনশক্তি পাঠানোর ক্ষেত্রেও সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিবাচক আলোচনা চলছে।
দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে উচ্চপর্যায়ের সফর ও বিনিয়োগ অংশীদারত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সৌদি আরবের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সফর করছেন। একইভাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন শুধু সহায়তানির্ভর সম্পর্কের বাইরে যেতে চায়। এটি কোনো টেকসই নীতি নয়। বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ বিনিয়োগ অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রীর সৌদি সফরের তারিখ নির্ধারণ হয়নি
প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই সৌদি আরব সফর করবেন। তবে সফরের তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি। তারিখ চূড়ান্ত হলে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
পবিত্র মসজিদ ও স্থানগুলোর নিরাপত্তায় সৌদি আরবে বাংলাদেশি সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পবিত্র স্থানগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তা চাওয়া হলে বাংলাদেশ তা দিতে প্রস্তুত।


















