ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তেহরানের একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেখানকার ধ্বংসস্তূপ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে উদ্ধার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন দেশটির অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্য মোহসেন হায়দারি।
কাতারের টেলিভিশন চ্যানেল আল আরাবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট।
হায়দারির দাবি, এর আগে হামলায় আহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে তেহরানের আরও দুটি হাসপাতালের পাশাপাশি ওই হাসপাতালেও হামলা হয়। একপর্যায়ে তৃতীয় হাসপাতালটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলে সেখান থেকেই মোজতবা খামেনিকে উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
পরে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবাকে একটি গোপন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় বলেও জানান হায়দারি। তার দাবি, হামলার পর থেকে মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে আসেননি এবং জনসম্মুখে কোনো বক্তব্যও দেননি। এ কারণে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের জল্পনা চলছে।
যেভাবে মোজতবা খামেনি নির্বাচিত হন
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়েও তথ্য দিয়েছেন হায়দারি। তার দাবি, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের কার্যালয়ও হামলার শিকার হয়েছিল।
কুম শহরে সংস্থাটির সচিবালয়ে হামলায় আটজন নিহত হন এবং নেতৃত্ব নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথি ধ্বংস হয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
হায়দারি জানান, এরপর অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্যরা কাগজে গোপনে ভোট দেন। পরে নিরাপদ একটি স্থানে নিয়ে গিয়ে নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
তার দাবি, মোজতবা খামেনির নাম প্রথম প্রস্তাব করেন তিনিই। ভোটের আগে সদস্যদের জানানো হয়েছিল, মোজতবা নেতৃত্ব দেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থায় আছেন এবং ধর্মীয় ও নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় যোগ্যতাও তার রয়েছে।
হায়দারির ভাষ্য অনুযায়ী, মোট ৫৯টি ভোটের মধ্যে মোজতবা খামেনি ৫০ ভোট পান। আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি পান ৮ ভোট এবং একজন সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন।
তিনি আরও দাবি করেন, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নির্বাচনের ঘোষণা প্রচার হওয়ার আগ পর্যন্ত মোজতবা নিজেও জানতেন না যে তাকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে।
হায়দারি মোজতবা খামেনিকে ‘আড়ালের মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় মোজতবার কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক পদ ছিল না।
তবে হাসপাতাল থেকে উদ্ধার, হামলায় আহত হওয়া এবং সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের বিষয়ে হায়দারির এসব বক্তব্যের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।


















