বৃহস্পতিবার , ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে বিশ্বনেতাদের প্রতি তারেক রহমানের আহ্বান

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে বিশ্বনেতাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল চেম্বারে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।’

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় তিনি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমেয় ও সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করা, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।

তিনি জানান, এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্যনিরাপত্তাও গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের সমান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু অভিযোজনের জন্য জাতীয়ভাবে বিনিয়োগ করা হলেও আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি মোকাবিলা করতে পারবে না।

জলবায়ু মোকাবিলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস, জলাভূমি পুনরুজ্জীবন ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের লক্ষ্যে নদী ও খাল পুনঃখননের কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও সার্কুলার অর্থনীতির উদ্যোগসহ সবুজ শিল্পের প্রসারে কাজ করছে সরকার। জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’ নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ এখন অপরিহার্য।

জলবায়ু মোকাবিলায় পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথমত, প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সীমা বজায় রাখতে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু উত্তরণের পথ তৈরি করতে হবে।

চতুর্থত, সুলভ অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে।

সর্বশেষে, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিতভাবে এর অর্থ পুনঃপূরণের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তার জলবায়ু পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করবে—এমন আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব প্রত্যাশা করে।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

সর্বশেষ - অপরাধ