আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে সাতজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
নিহত ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম (৩০)। তিনি ওই কারখানার সামনের সড়কে কাঁচামাল বিক্রি করতেন। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুর্ঘটনার পর তাকে আরও তিনজনের সঙ্গে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে নজরুলের মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান।
তিনি জানান, আশুলিয়ার ঘটনায় মোট চারজনকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে নজরুল ইসলাম মারা গেছেন। বাকি তিনজনের মধ্যে দুজন ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে এবং একজন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নজরুলের ছেলে সামিউল ইসলাম জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামে। বর্তমানে তারা আশুলিয়ার শিমুলতলা এলাকায় থাকেন। তার বাবা ওই কারখানার সামনে পেঁয়াজ-রসুন বিক্রি করতেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় মা ও শিশু হাসপাতালে গিয়ে বাবাকে দেখতে পান। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আহত মোখলেস মিয়া জানান, তিনি ও তার ছেলে সুজন মিয়া আশুলিয়ার জামগড়া প্রীতি গ্রুপের পোশাক কারখানার সামনের সড়কে কাঁচামাল বিক্রি করেন। সন্ধ্যার দিকে কারখানার ভেতর বিকট বিস্ফোরণের শব্দ হয়। বিস্ফোরণের পর লোহার বিভিন্ন সামগ্রী, ইটপাটকেল ও কাচ ছড়িয়ে পড়ে। এগুলোর আঘাতে সুজন মাথায় আঘাত পান এবং মোখলেস নিজেও হাতে আঘাত পান। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহতদের মধ্যে নুর ইসলাম (৩০) নামে এক গাড়িচালকও রয়েছেন। তার ভাগিনা মো. মাসুদ জানান, নুর ইসলামের বাড়ি বাগেরহাটে হলেও তিনি ভোলায় থাকতেন। তিনি গ্যাস পরিবহনের গাড়ি চালাতেন। বিস্ফোরণে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে ফায়ার সার্ভিস ঢাকা জোন-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার আনলোড করার সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের শরীর পুড়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্য দুই নিহতের মধ্যে সালমা নামে এক নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। আরেকজন বুলবুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলছে।


















