সোমবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, সংসার চালাতে ঋণ করছে প্রায় অর্ধেক পরিবার

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৮:২০ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

দেশের বহু পরিবার আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতে পারছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম, কর্মসংস্থানে স্থবিরতা ও প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ায় সংসারের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ। ঘাটতি সামাল দিতে সঞ্চয় ভাঙার পাশাপাশি ঋণ করতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে ঋণ করেছে দেশের ৪৭ দশমিক ৪২ শতাংশ পরিবার। শহরের তুলনায় গ্রামীণ পরিবারগুলোর মধ্যে এ প্রবণতা বেশি।

জাতীয় বেতন কমিশনের অনুরোধে বিবিএসের দারিদ্র্য ও জীবিকা পরিসংখ্যান সেল জরিপটি পরিচালনা করে। গত বছরের ১৪ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাম, শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকার তিন হাজার পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

জরিপের তথ্য বলছে, দেশে পরিবারপ্রতি গড় মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা। বিপরীতে গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। অর্থাৎ প্রতি মাসে আয়-ব্যয়ের গড় ব্যবধান এক হাজার ৭৯৮ টাকা। এ ঘাটতি পূরণে অনেক পরিবারকে ঋণ কিংবা সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

গ্রামে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বেশি

অঞ্চলভেদে ঋণ নেওয়ার প্রবণতায়ও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। গত এক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গ্রামীণ এলাকার ৫১ দশমিক ৯১ শতাংশ পরিবার ঋণ করেছে। শহরাঞ্চলে এ হার ৪০ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩২ দশমিক ১১ শতাংশ।

জরিপ অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিবারপ্রতি গড় মাসিক ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা। শহরাঞ্চলে এ ব্যয় ৩৭ হাজার ৩৪৪ টাকা এবং গ্রামীণ এলাকায় ৩২ হাজার ৫৩২ টাকা।

জাতীয় পর্যায়ে পরিবারের মোট ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক খাদ্য এবং বাকি অংশ খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয় হয়। তবে গ্রামীণ পরিবারগুলোতে খাদ্য ব্যয়ের চাপ তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে, সিটি করপোরেশন এলাকার পরিবারগুলোর মোট ব্যয়ের ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ যায় খাদ্যবহির্ভূত খাতে।

মূল্যস্ফীতির চাপে কমছে ক্রয়ক্ষমতা

অর্থনীতিবিদদের মতে, মহামারির পর থেকে দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কর্মসংস্থানে স্থবিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্রামীণ এলাকায় আয়ের সুযোগ সীমিত থাকায় পরিবারগুলোকে তুলনামূলক বেশি ঋণ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রবাসী আয় থেকেও সীমিতসংখ্যক মানুষ বেশি উপকৃত হচ্ছেন বলে তাঁদের মত।

বিবিএসের মজুরি হার সূচক অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার কমে ৭ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগের মাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টানা ৫৬ মাস ধরে মজুরি বৃদ্ধির হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেশি ছিল। এর ফলে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

দারিদ্র্য বাড়ার আশঙ্কা বিশ্বব্যাংকের

গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনেও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমের চাহিদায় ঘাটতি এবং দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের জীবনযাত্রার মান ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশে দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে আনুমানিক ২২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

সব মিলিয়ে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা পরিবারগুলোর আর্থিক নিরাপত্তাকে চাপে ফেলছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ার এ চিত্র নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার চাপের বিষয়টি সামনে এনেছে।

সর্বশেষ - অপরাধ