শনিবার , ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার আগেই বিভ্রান্তি

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও খুলতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। এতে নতুন করে আশার আলো দেখছেন বিদেশে যেতে আগ্রহী হাজারো তরুণ। তবে বাজার পুরোপুরি চালু হওয়ার আগেই দেখা দিয়েছে তথ্যের ঘাটতি ও বিভ্রান্তি। মালয়েশিয়া সরকার প্রায় এক মাস আগে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও ধাপ প্রকাশ করলেও বাংলাদেশে তা যথাযথভাবে প্রচার না হওয়ায় অনেক চাকরিপ্রত্যাশী এখনো জানেন না—কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং কার মাধ্যমে তারা মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন।

এই তথ্যশূন্যতার সুযোগ নিচ্ছে রিক্রুটিং এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্সি, দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাকরির নানা ধরনের প্রচার, দ্রুত মালয়েশিয়া পাঠানোর আশ্বাস এবং নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা চাকরিপ্রত্যাশীদের আকৃষ্ট করছেন। ফলে সরকারি নির্দেশনার চেয়ে দালালদের কথাই অনেকের কাছে বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠছে।

পাসপোর্ট-টাকা জমা না দেওয়ার সতর্কতা

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কাউকে পাসপোর্ট জমা না দিতে, টাকা না দিতে এবং মেডিকেল পরীক্ষা না করাতে বলেছে। কিন্তু এই সতর্কতার মধ্যেই কিছু লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং ও ট্রাভেল এজেন্সি এবং দালাল তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রচারণায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন অনেক চাকরিপ্রত্যাশী।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি পুরোনো সমস্যার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিদেশে যাওয়ার প্রাথমিক ধাপ থেকে শুরু করে বিমানবন্দরে ওঠা পর্যন্ত একজন কর্মীকে নিজ দেশেই নানা ধরনের হয়রানি, অনিশ্চয়তা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

মিথ্যা আশ্বাস, তথ্য গোপন, বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি, পাসপোর্ট আটকে রাখা কিংবা পাসপোর্টের অপব্যবহার—এসব অভিযোগও নতুন নয়। ভিসা কেনাবেচা, দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুষ এবং মেডিকেল পরীক্ষা ও বিমান টিকিটের ক্ষেত্রে বাড়তি অর্থ নেওয়ার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।

এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয়েছে সাধারণ কর্মীদের। অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বিদেশে গিয়ে চাকরি না পাওয়া, বেতন না পাওয়া, নিয়োগকর্তার প্রতারণার শিকার হওয়া কিংবা আইনি জটিলতায় পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। শেষ পর্যন্ত অনেককে শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হয়েছে।

৩৩৮ এজেন্সির তালিকা ঘিরে প্রশ্ন

এবার নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য ৩৩৮টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে।

তালিকায় রয়েছে ২৫টি প্রধান এজেন্সি, তাদের অধীনে ২৫০টি সহযোগী এজেন্সি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড—বোয়েসেলের অধীনে ৬২টি এজেন্সি।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, ২৫০টি সহযোগী এজেন্সি কি সরাসরি মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতার কাছ থেকে চাহিদাপত্র সংগ্রহ করে কর্মী পাঠাতে পারবে, নাকি তারা ২৫টি প্রধান এজেন্সির অধীন সাব-এজেন্ট হিসেবেই কাজ করবে? বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অতীতের অভিজ্ঞতায় ‘সহযোগী এজেন্সি’ কাঠামোর আড়ালে কার্যত সিন্ডিকেট ব্যবস্থা গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, তালিকাভুক্ত কিছু এজেন্সির মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা নেই। এমনকি কিছু প্রধান এজেন্সির বিএমইটি ক্লিয়ারেন্সের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর রেকর্ড নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম নতুন ব্যবস্থাকে আগের সিন্ডিকেশন পদ্ধতির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার ভাষ্য, অতীতেও অনেক এজেন্সির নাম তালিকায় থাকলেও বাস্তবে সরাসরি নিয়োগের সুযোগ সীমিত ছিল।

সরকারের ব্যাখ্যা

তবে সরকারের বক্তব্য ভিন্ন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৩৩৮টি এজেন্সির নির্বাচন বাংলাদেশ করেনি; বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষই তালিকাটি তৈরি করেছে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলো যাচাই-বাছাই করেছে। সরকার ৩৩৮টি এজেন্সির অন্তর্ভুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ হিসেবেও বর্ণনা করেছে।

তবে তালিকা প্রকাশ করাই শেষ কথা নয়। কোন এজেন্সি কীভাবে কাজ করবে, কর্মীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ কত টাকা নেওয়া যাবে, চাহিদাপত্র কে সংগ্রহ করবে, সাব-এজেন্টের ভূমিকা কী হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া কীভাবে নজরদারির আওতায় থাকবে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর প্রয়োজন।

তিন মাসে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ

এরই মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় আগামী তিন মাসে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির সেবা খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় এসব কর্মী নিয়োগ করা হবে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। মালয়েশিয়া ডিসেম্বরের মধ্যে ওই খাতে মোট ১৫ হাজার কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

২০২৪ সালের ১ জুনের সময়সীমার আগে মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে প্রথম দফায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম দলকে বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনায় বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাদের বিমানভাড়াসহ অন্যান্য অভিবাসন ব্যয়ও বহন করার কথা রয়েছে।

এই উদ্যোগ সফল হলে স্বচ্ছ ও নিরাপদ কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে এটি একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হতে পারে। তবে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ের এই মডেল শুধু সীমিত সংখ্যক কর্মীর মধ্যে থাকবে, নাকি ভবিষ্যতের বৃহত্তর নিয়োগ ব্যবস্থাতেও এর প্রতিফলন ঘটবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সরকারি তথ্য কেন পৌঁছাচ্ছে না কর্মীদের কাছে?

বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের বিএমইটিতে নিবন্ধন করতে হয়। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, জেলা কর্মসংস্থান অফিস এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র—টিটিসিতেও এ নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। এরপরও মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী বহু তরুণকে ঢাকামুখী হতে দেখা যায়।

প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারি সেবাগুলো যদি মানুষের দোরগোড়ায় থাকে, তাহলে চাকরিপ্রত্যাশীরা কেন দালাল ও এজেন্সির ওপর বেশি নির্ভর করবেন?

রামরুর গবেষণাতেও উঠে এসেছে, চাকরিপ্রত্যাশীরা অনেক ক্ষেত্রে সরকারের চেয়ে কাছের দালালের তথ্যকে বেশি বিশ্বাস করেন। এর অর্থ শুধু নাগরিকের সচেতনতার ঘাটতি নয়; সরকারি তথ্য কত দ্রুত, কীভাবে এবং কতটা সহজ ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, সেই প্রশ্নও সামনে আসে।

মোবাইলভিত্তিক নিবন্ধন ও আঙুলের ছাপ গ্রহণের মতো ব্যবস্থা আরও সহজলভ্য করা গেলে চাকরিপ্রত্যাশীদের ঢাকায় এসে অযথা অর্থ খরচের প্রয়োজন কমতে পারে। একই সঙ্গে টিটিসিগুলোকে শুধু প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে নয়, নিরাপদ বৈদেশিক কর্মসংস্থানের তথ্য ও পরামর্শকেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

পুরোনো ভুল থেকে বেরিয়ে আসার পরীক্ষা

মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো ও গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। কিন্তু কর্মী পাঠানো নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও নতুন নয়। কয়েক বছর পরপর বিভিন্ন অভিযোগে বাজার বন্ধ হয়েছে। পরে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতায় বাজার খোলা হয়েছে। কিন্তু একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পুনরায় সামনে আসায় আবারও সংকট তৈরি হয়েছে।

বাজার বন্ধ থাকলে আগাম প্রচারণা, চাহিদা তৈরি ও অর্থ সংগ্রহ এবং বাজার খুললে তাড়াহুড়ো করে কর্মী পাঠানোর প্রবণতা বন্ধ না হলে নতুন করে একই সংকট তৈরি হতে পারে।

শুধু কতজন কর্মী বিদেশে গেলেন—এই সংখ্যাকে সাফল্যের মাপকাঠি করলে চলবে না। কত কম খরচে, কতটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়, কতটা নিরাপদে এবং কতটা দক্ষ কর্মী বিদেশে গেলেন—সেটিই হওয়া উচিত সাফল্যের মানদণ্ড।

বর্তমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। এর আগে নতুন চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতে যোগ্য সব রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা করছে সরকার।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

উত্তরাঞ্চলের তেঁতুলিয়ায় আরও কমল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন: অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

নিউইয়র্কে ডেলিভারি ওয়ার্কারদের জন্য নতুন সেবা কেন্দ্রের উদ্বোধন

নানকের সহকারী বিপ্লবের নির্দেশে হাদিকে হত্যা, জবানবন্দিতে রুবেল

শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে জাপানের অভিজ্ঞতা নিতে চাই: ববি হাজ্জাজ

ঢাকায় আসছেন অস্ট্রেলিয়ার স্পিকার, দেখবেন সংসদের কার্যক্রম

দেশে ফেরা একক সিদ্ধান্ত নয়: তারেক রহমান

৫ লাশের ওপর অভিযোগপত্র রেখে উধাও ফোরকান

১৫ আগস্টে গোপালগঞ্জে কঠোর নিরাপত্তা, বিজিবি মোতায়েন

সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর