ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িচালক রাজ্জাক মাতব্বরের ছেলে মো. রুবেল আহমেদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) বিপ্লবের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান সামি এক ফেসবুক পোস্টে এই জবানবন্দির বিস্তারিত প্রকাশ করেন।
জবানবন্দিতে উঠে আসা প্রধান তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- হত্যার নেপথ্য কারণ ও বাজেট: জবানবন্দিতে রুবেল উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্যের জেরে ছাত্রনেতা ওসমান হাদি এবং ইউটিউবার কাফিকে সরিয়ে দেওয়ার (হত্যা) পরিকল্পনা করা হয়। এই কাজের জন্য ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল বলে জানা গেছে।
- হুকুমদাতা ও সমন্বয়কারী: ভারতের দিল্লিতে পলাতক জাহাঙ্গীর কবির নানকের এপিএস বিপ্লব এই হত্যার মূল নির্দেশদাতা। ৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বিপ্লব সরাসরি কামরুজ্জামান রুবেলকে ফোন করে এই নির্দেশ দেন। কামরুজ্জামান রুবেল পরবর্তীতে এই দায়িত্বটি প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে শুটার ফয়সালকে বুঝিয়ে দেন।
- আসামির পূর্ব ইতিহাস: রুবেল আহমেদ এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বছিলা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তবে পরবর্তীতে জামিনে বের হন। ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কেরানীগঞ্জ থেকে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং ৩১ জানুয়ারি তিনি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের খাস কামরায় এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
- অর্থের যোগসূত্র: জবানবন্দি অনুযায়ী, কামরুজ্জামান রুবেলের কাছে ফয়সালের আগের কিছু পাওনা টাকা ছিল। সেই টাকা আদায় এবং নতুন করে ফয়সালকে কাজ দেওয়ার অংশ হিসেবেই এই খুনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।
সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তাঁর পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন যে, রুবেল আহমেদ ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসেই এই পরিকল্পনার কথা জানলেও কেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাননি। বর্তমানে এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীরকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই জবানবন্দির পর বিপ্লবসহ এই হত্যাকাণ্ডের অর্থের যোগানদাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে।



















