সিলেটের শাহজালাল উপশহর এলাকায় কোমরে শিকল বাঁধা অবস্থায় এক কিশোরীকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, কোমরে শিকল বাঁধা অবস্থায় এক কিশোরীকে এক যুবক টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় কিশোরীকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়।
জানা গেছে, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সিলেট নগরের উপশহর ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার সড়কে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় দোকানদার ও কয়েকজন ব্যক্তি ওই কিশোরীকে আটকের পর তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাস্তায় হাঁটানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চুরির চেষ্টার অভিযোগ
মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের দাবি, ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে এলাকার একটি দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে টাকা চুরির চেষ্টা করার অভিযোগে কিশোরীকে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা আটক করেন। পরে তাকে মারধর করে কোমরে শিকল বেঁধে রাস্তায় হাঁটানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে কিশোরীকে ঠিক কারা মারধর করেছেন বা কারা শিকল দিয়ে বেঁধে টেনে নিয়ে গেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আইনজীবীর বক্তব্য
সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারা অনুযায়ী কোনো সাধারণ নাগরিক আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিকে আটক করতে পারেন। তবে আটকের পর তাকে দ্রুত পুলিশ বা নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করতে হবে।
আটক ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া বা তার ওপর শারীরিক কিংবা মানসিক নির্যাতন চালানোর অধিকার কোনো সাধারণ নাগরিকের নেই। কোমরে শিকল বেঁধে জনসমক্ষে হাঁটানো কিংবা শারীরিক বা মানসিক চাপ প্রয়োগ আইনবিরোধী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেও জানান তিনি।
পুলিশের বক্তব্য
শাহপরান থানার ওসি মো. মনির হোসেন মঙ্গলবার রাতে সংবাদমাধ্যমকে জানান, রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং কিশোরীকে হেফাজতে নিয়ে থানায় আসে। তার বয়স আনুমানিক ১৫ থেকে ১৬ বছর।
ওসি বলেন, একটি দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে অর্থ চুরির বিষয়ে স্থানীয়রা অভিযোগ করলেও এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। কিশোরীকে থানায় নিয়ে আসার পরও স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
পরে কিশোরীকে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হয়।
কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে ঘোরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। কেউ এমন কাজ করে থাকলে তা অন্যায় হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


















