বৃহস্পতিবার , ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

আগস্টে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭, আহত ৫৩৬: এইচআরএসএস

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৭:৫২ অপরাহ্ণ

Spread the love

আগস্ট মাসে সারা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ৭০টি ঘটনায় ৭ জন নিহত এবং ৫৩৬ জন আহত হয়েছেন। দলীয় ও অন্তর্কোন্দল, রাজনৈতিক বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকেন্দ্রিক এসব সহিংসতার চিত্র উঠে এসেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) মাসিক প্রতিবেদনে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলামের পাঠানো প্রতিবেদনে আগস্ট মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ২০টি ঘটনায় ১৫২ জন আহত এবং ৫ জন নিহত হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ১৮টি সংঘর্ষে ২৩৩ জন আহত ও একজন নিহত হয়েছেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ৭টি সংঘর্ষে ২৬ জন আহত ও একজন নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে ৬টি সংঘর্ষে ১৬ জন এবং বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে ১০টি ঘটনায় ৩৮ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে আরও ৯টি সংঘর্ষের ঘটনায় ৭১ জন আহত হয়েছেন। নিহত ৭ জনের মধ্যে বিএনপির ৫ জন, আওয়ামী লীগের একজন এবং জামায়াতের একজন রয়েছেন।

ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। অন্তত ১৩টি ঘটনায় ২১৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে ৮টি ঘটনায় ১৮১ জন এবং ছাত্রদল, অন্যান্য ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫টি ঘটনায় ৩৫ জন আহত হয়েছেন।

এইচআরএসএস বলছে, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, হামলা, দলীয় ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, গুলিবিদ্ধ হওয়া, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুষ্কৃতকারীদের হামলায় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের ওপর অন্তত ৪টি পৃথক ঘটনায় ২ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া অন্তত ১২ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

আধিপত্য বিস্তার, দখলদারি, রাজনৈতিক সহিংসতা ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ১৯টি ঘটনায় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। আগস্টে কুষ্টিয়া ও সাতক্ষীরায় নির্বাচনী বিরোধে সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন।

রাজনৈতিক মামলা ও গ্রেপ্তার নিয়েও প্রতিবেদনে তথ্য দেওয়া হয়েছে। আগস্টে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৬২টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১ হাজার ১২৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও প্রায় ২ হাজার ২০৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। একই মাসে রাজনৈতিক ও অন্যান্য ঘটনায় মোট ১৬২টি ঘটনায় ১২ হাজার ৮২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে আওয়ামী লীগের অন্তত ৪২৯ জন, বিএনপির ২২ জন, জামায়াতে ইসলামীর ৪ জন, এনসিপির ৯ জন এবং উগ্রপন্থী সংগঠনের ৫ জন সদস্য রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মব সহিংসতা ও গণপিটুনির বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে এইচআরএসএস। আগস্টে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাগ্‌বিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার ও ধর্মীয় অবমাননাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ৫৩টি গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনায় ২৮ জন নিহত এবং ৬২ জন আহত হয়েছেন।

সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় আগস্টে অন্তত ৪৫ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তিনটি ঘটনায় ২৬ জন আহত, ৬ জন লাঞ্ছিত এবং ৭ জন হুমকির মুখে পড়েছেন। এ ছাড়া ৫ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে এবং সংবাদ প্রকাশের জেরে একটি মামলায় একজন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে।

সভা-সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংগঠনটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৩টি সভা ও সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বাধা দিয়েছে। এতে ৬১ জন আহত এবং ৮ জন আটক হয়েছেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অন্তত ৮টি ঘটনায় ১০ জন আটক ও ৮টি মামলা হয়েছে।

এ ছাড়া সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় পৃথক ৪টি মামলায় ৫ জনকে অভিযুক্ত এবং তাদের আটক করার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্রও উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে এইচআরএসএস। আগস্টে ২৪৯ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ৭৯ জন ধর্ষণের শিকার, যাদের ৪৬ জনই ১৮ বছরের কম বয়সী। গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮ জন। যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ৯৩ জন নারী ও কন্যাশিশু।

পারিবারিক সহিংসতায় ৪৯ জন নারী নিহত, ৩১ জন আহত এবং ২৩ জন আত্মহত্যা করেছেন। যৌতুকের ঘটনায় ৬ জন নারী নিহত, ৭ জন আহত এবং একজন আত্মহত্যা করেছেন। একই সময়ে ২৮২ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে; তাদের মধ্যে ৭৭ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং ২০৫ জন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

শ্রমিক নির্যাতনের ৮৪টি ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও অন্তত ৬৭ জন আহত হয়েছেন। অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ ও সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৩ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

সীমান্ত পরিস্থিতিতেও প্রাণহানি ও আটকের ঘটনা ঘটেছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের হামলায় ২ জন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ৫ জনকে আটক এবং বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৫ জনকে পুশইন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে একজন বাংলাদেশি নিহত ও একজন আহত হয়েছেন।

সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, আগস্টে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সংবেদনশীল ও পরিবর্তনশীল পর্যায়ের মধ্য দিয়ে গেছে। রাজনৈতিক সহিংসতা, ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, মব সহিংসতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন, সীমান্ত সহিংসতা ও শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে ঘটেছে।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার, হয়রানি ও আইনি পদক্ষেপের ঘটনাও নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

মানবাধিকার রক্ষায় সরকারকে আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাগরিক, গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে আরও সোচ্চার ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এইচআরএসএস।

সর্বশেষ - অপরাধ