বিকল্প বিস্তারিত সংবাদ
ভেনেজুয়েলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি তেলক্ষেত্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে দেশটির সঙ্গে চুক্তির আলোচনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো এসব তেলক্ষেত্র উন্নয়ন ও পরিচালনার সুযোগ পেতে পারে। উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, চুক্তিটি খুব শিগগিরই সই ও প্রকাশ করা হতে পারে। এতে ভেনেজুয়েলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্র মার্কিন নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে। চুক্তি বাস্তবায়নে ‘ইজারা’ পদ্ধতি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে নিলাম বা দরপত্রের মাধ্যমে তেলক্ষেত্রগুলো মার্কিন তেল কোম্পানির কাছে দেওয়া হতে পারে।
রয়টার্সের হাতে আসা আলোচনার তালিকায় মোট ১৭টি তেলক্ষেত্রের নাম রয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ওরিনোকো বেল্টের নতুন তেলক্ষেত্রের পাশাপাশি মারাকাইবো হ্রদের আশপাশের পুরোনো ও অধিক উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্রও রয়েছে। তালিকাভুক্ত কয়েকটি তেলক্ষেত্র বর্তমানে একটি চীনা কোম্পানি পরিচালনা করছে।
এদিকে, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার অংশ হিসেবে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ১৯৬০ সালে ওপেকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে সংগঠনটিতে যোগ দিয়েছিল ভেনেজুয়েলা।
তবে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে বড় ধরনের আইনি জটিলতার আশঙ্কাও রয়েছে। ভেনেজুয়েলার বর্তমান সংবিধান ও জ্বালানি আইনে দেশটির তেলশিল্পের মূল কার্যক্রম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে রাখার বিধান রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সংস্কার করা আইনে যৌথ উদ্যোগ ও উৎপাদন ভাগাভাগির চুক্তির মাধ্যমে তেলক্ষেত্র পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেলের মজুদ ভেনেজুয়েলায় থাকলেও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগের ঘাটতি ও দুর্নীতির কারণে দেশটির উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কম। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদিত হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, নতুন বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশটির উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভেনেজুয়েলার তেলের গুরুত্বও বাড়ছে। দেশটি থেকে দীর্ঘমেয়াদি ও তুলনামূলক কম দামে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে মার্কিন জ্বালানি বাজারে চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) পুনরায় পূরণেও ভেনেজুয়েলার তেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে বিদেশি কোম্পানির হাতে তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা ভেনেজুয়েলার সংবিধান ও বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য চুক্তিটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে পারে।


















