শুক্রবার , ২৮ আগস্ট ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

জিওর আগেই ১,৪৯২ কোটি টাকার প্রকল্পে পিডি নিয়োগ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

একনেকের শর্ত অনুযায়ী প্রকল্পের ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ শেষ হয়নি। এমনকি প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদনের আদেশ বা জিওও এখনো জারি হয়নি। এর মধ্যেই ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকার বৃহত্তর দিনাজপুর জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত পরিপত্র উপেক্ষা করে আগাম নিয়োগ দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, প্রচলিত পরিপত্র অনুযায়ী একনেকে কোনো প্রকল্প অনুমোদনের পর প্রশাসনিক আদেশ বা জিও জারি করা হয়। এরপর জিও জারির এক মাসের মধ্যে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের নির্দেশনা রয়েছে। ফলে এই প্রকল্পে জিও জারির আগেই পিডি নিয়োগের বিষয়টি পরিপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এসএম শাকিল আখতার জানিয়েছেন, বর্তমান পরিপত্র অনুযায়ী জিও জারির আগে পিডি নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তবে এই নিয়মের কারণে অনেক প্রকল্পে পিডি নিয়োগে কয়েক মাস সময় লেগে যায়। এ কারণে পরিপত্র সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে সংশোধনের একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২২ জুলাই একনেকের সভায় বৃহত্তর দিনাজপুর—দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়—জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। সভায় সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩০ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়।

তবে প্রকল্প অনুমোদনের সময় চারটি শর্ত দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ সংশোধন করে ডিপিপি পুনর্গঠন এবং তা পরিকল্পনা বিভাগের মাধ্যমে পাঠানোর নির্দেশ ছিল। পাশাপাশি পরামর্শক ব্যয়, গাড়ি ভাড়া ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং অতি প্রয়োজনীয় না হলে এসব ব্যয় বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব জনবলের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়।

একনেকের সিদ্ধান্তের পর ৪ আগস্ট এনইসি-একনেক উইং থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি দিয়ে একনেকের শর্ত অনুযায়ী ডিপিপি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পুনর্গঠিত ডিপিপির ১৪ কপি প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র ও স্বাক্ষরসহ পরিকল্পনা বিভাগের সংশ্লিষ্ট উইংয়ে পাঠাতে বলা হয়।

কিন্তু ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ শেষ হওয়ার আগেই পিডি নিয়োগের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। ১১ আগস্ট এ বিষয়ে সভা আহ্বান করা হয়। পরদিন ১২ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর পরদিন ১৩ আগস্ট এলজিইডির ঠাকুরগাঁও জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন বিশ্বাসকে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

অর্থাৎ একনেকের শর্ত অনুযায়ী ডিপিপি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়ার মাত্র সাত দিনের মধ্যে পিডি নিয়োগের সভা এবং তার পরদিনই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। অথচ ২৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদনের জিও জারি হয়নি।

প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত পরিপত্রের ২১.২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ৫০ কোটি টাকা বা তার বেশি ব্যয়ের প্রকল্পে পূর্ণকালীন অভিজ্ঞ ও যোগ্য প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে উদ্যোগী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক প্রকল্প অনুমোদনসংক্রান্ত প্রশাসনিক আদেশ জারির এক মাসের মধ্যে পিডি নিয়োগের নির্দেশনা রয়েছে।

এ অবস্থায় জিও জারির আগেই বৃহত্তর দিনাজপুর প্রকল্পে পিডি নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একনেকের শর্ত ও বিদ্যমান পরিপত্র অনুসরণ না করে এভাবে পিডি নিয়োগের ঘটনা সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি নজির হয়ে থাকতে পারে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নকারী কর্মকর্তাকে যথাসম্ভব প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। একই কর্মকর্তা যেন একাধিক প্রকল্পের পিডি হিসেবে দায়িত্ব না পান, সে বিষয়েও নির্দেশনা রয়েছে। তবে এসব বিধান বৃহত্তর দিনাজপুর প্রকল্পে কীভাবে অনুসরণ করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সর্বশেষ - অপরাধ