মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনা হ্রাস এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে ইরান ও ওমানের মধ্যে চলমান আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে পতন ঘটেছে। রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৭ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ কমে ৭৯.০৮ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৩ সেন্ট বা ০.৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৭৪.৬৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
নোমুরা সিকিউরিটিজের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ইউকি তাকাশিমা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক তৎপরতায় ইতিবাচক সংকেত আসার পরই অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রির চাপ বাজারে লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। ওমানের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত সমঝোতায় পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী আন্তর্জাতিক জাহাজের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয়ে ইরান কূটনৈতিক ছাড় পাওয়ার প্রত্যাশা করলেও, ওয়াশিংটন সামরিক ও কৌশলগত জলপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে এখনও আপত্তি জানিয়ে আসছে। একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (EIA) প্রতিবেদনে অপরিশোধিত তেলের মজুদ প্রায় ২৫ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধির তথ্য এবং অন্যদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরে অব্যাহত হামলার হুমকির মুখে বিশ্ব বাজারের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি এক জটিল ও সংবেদনশীল মোড়ে অবস্থান করছে।

















