রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি সেবাকে আরও গতিশীল করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নাগরিকদের ‘সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিআইএমএস)’-এ তথ্য নিবন্ধন ও হালনাগাদ করার আহ্বান জানিয়েছে। বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া এবং মেস সদস্যদের সঠিক তথ্য দ্রুত এই ডিজিটাল ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
সিআইএমএস কার্যক্রম ও এর সুবিধা সম্পর্কিত মূল তথ্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- বর্তমান পরিসংখ্যান ও ইতিহাস: ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে বর্তমানে ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার ২৩৮টি পরিবারের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ৫০ লাখের বেশি নাগরিকের তথ্য সুরক্ষিত আছে। নাগরিকদের সুবিধার্থে ২০১৯ সালে এর একটি মোবাইল অ্যাপও চালু করা হয়।
- নিবন্ধনের সহজ প্রক্রিয়া: ঢাকা মহানগরের প্রতিটি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে সিআইএমএস নিবন্ধন ফরম পাওয়া যায়। নাগরিকরা ফরম পূরণ করে তা সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে পারবেন। তবে ঠিকানা পরিবর্তন করলে নতুন এলাকার থানায় পুনরায় তথ্য হালনাগাদ বা নিবন্ধন করতে হবে।
- বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের সুবিধা: এই নিবন্ধনের মাধ্যমে বাড়িওয়ালারা সহজেই ভাড়াটিয়ার সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেন, ফলে অপরাধী বা প্রতারকদের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ কমে যায় এবং অযথা হয়রানি এড়ানো যায়। অন্যদিকে, ভাড়াটিয়ারাও জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিট অফিসারের কাছ থেকে দ্রুত পুলিশি সহায়তা পেয়ে থাকেন।
- অপরাধ দমন ও তদন্তে ভূমিকা: ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, সংরক্ষিত এই তথ্য বিট পুলিশিংকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধ, সন্দেহভাজনদের পরিচয় যাচাই, পলাতক অপরাধী ধরা এবং নিখোঁজ ব্যক্তি শনাক্তকরণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
একটি নিরাপদ, স্মার্ট ও অপরাধমুক্ত ঢাকা শহর গড়ে তুলতে এবং পুলিশ-জনতা পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজধানীর সকল নাগরিককে সিআইএমএস-এ নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।


















