মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের রহস্যময় নীরবতা ভাঙার দাবি তুলেছেন একদল ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো এক চিঠিতে ৩০ জন কংগ্রেস সদস্য ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্রাগার এবং এ সংক্রান্ত গোপনীয় নীতি নিয়ে প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, সংঘাত যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে সম্ভাব্য পারমাণবিক ঝুঁকি এবং এর মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা সম্পর্কে কংগ্রেসকে অবহিত করা এখন সাংবিধানিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিঠির মূল বিষয় ও উত্থাপিত প্রশ্নসমূহ আইনপ্রণেতারা জানতে চেয়েছেন, পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তিতে (NPT) স্বাক্ষর না করা ইসরায়েল কি বর্তমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো সীমারেখা বা শর্ত ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে? চিঠিতে ইসরায়েলের ওয়ারহেড সংখ্যা, দিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রের কার্যক্রম এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে। সিআইএ-র পুরোনো নথির বরাত দিয়ে চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, ১৯৬০-এর দশক থেকেই ইসরায়েল পরমাণু শক্তির অধিকারী বলে ধারণা করা হলেও আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি নেই। বর্তমানে দেশটির কাছে প্রায় ৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সেগুলো বহনে সক্ষম সাবমেরিন ও দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
বৈশ্বিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপটে প্রভাব বর্তমানে যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাকেই যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে প্রচার করছে, তখন ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এই বিরল সমন্বিত চাপ ওয়াশিংটনের কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাংলাদেশেও যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র সংস্কার চলছে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেইজিংয়ে কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে বৈঠক করছেন, তখন মধ্যপ্রাচ্যের এই পারমাণবিক বিতর্কের ঢেউ বৈশ্বিক জ্বালানি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মার্কিন কংগ্রেসের এই অবস্থান ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভেতরে তৈরি হওয়া অভ্যন্তরীণ চাপকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা



















