বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি বড় যুদ্ধ আখ্যা দিয়ে দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের অর্থনীতি ও সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে গেছে এবং প্রতিবছর দেশ থেকে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। এই বিপুল অর্থ পাচার না হলে দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ সাধারণ মানুষের অনেক মৌলিক সমস্যার সমাধান করা যেত। এই সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেও বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানযোগ্য সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছে বলে তিনি প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, সরকার এমন এক দেশ গড়তে কাজ করছে যেখানে কোনো জাতি-গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য থাকবে না এবং সবাইকে সাথে নিয়েই তিনি এগিয়ে যেতে চান। বৈঠকে উপস্থিত ১৭টি জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাঁদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সমতলের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, জাতীয় কনভেনশন আয়োজন, সাংবিধানিক স্বীকৃতি, বন বা প্রকল্পের নামে উচ্ছেদ বন্ধ এবং ঋণসুবিধা প্রদান। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের প্রতিটি সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে তা সমাধানের আশ্বাস দেন। সভায় এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা দেশের একটি পুরো প্রজন্মকে ধ্বংস করে গেছে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূচনা করেছিলেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার আমলে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। বর্তমান সরকার এখন এই উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সাথে আগের সরকারের অকার্যকর কমিউনিটি ক্লিনিকের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ বাড়ানো হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করে কিডনি ডায়ালাইসিস ও হার্টের রিংসহ জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর থেকে কর হ্রাস করার বিষয়েও কাজ করছে তাঁর সরকার।


















