মঙ্গলবার , ৭ জুলাই ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

শান্তি আলোচনার মাঝেই ইরানকে হুমকি ট্রাম্পের

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ৭, ২০২৬ ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও চলমান সংঘাতের অবসানে তেহরানকে হয় একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে, অন্যথায় দেশটিকে সামরিকভাবে ‘শেষ করে দেওয়া হবে’ বলে নজিরবিহীন ও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে দাবি করেন, ওয়াশিংটন চাইলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের আধুনিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও বৃহৎ অর্থনৈতিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে সক্ষম। সোমবার ইরান ইস্যুতে দেওয়া এক নীতি নির্ধারণী বক্তব্যে ট্রাম্প তাঁর অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা যেকোনোভাবেই জিতব। হয় আমরা একটি পারস্পরিক চুক্তিতে পৌঁছাব, না হলে তাদের কাজ চিরতরে শেষ করে দেব।” তবে এই চরম হুমকির পাশাপাশি ট্রাম্প কৌশলগত কারণে সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমি চুক্তিকেই প্রাধান্য দিতে চাই। কারণ ৯ কোটি সাধারণ মানুষের ক্ষতি হোক, তা আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই না। একসময় তাদের কাছে প্রচুর অর্থ ছিল, কিন্তু এখন আর তা নেই। আমরা তাদের কোনো অর্থ বা ছাড় দিইনি।”

‘মানুষকে হত্যা করা যায়, আদর্শকে নয়’: ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ইরানের

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দম্ভোক্তি ও অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করে বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুজনিত গভীর জাতীয় শোক ও আবেগ উপলব্ধি করতে পারবে না। কারণ মার্কিন প্রশাসনের কোনো প্রাচীন সভ্যতা, গৌরবময় ইতিহাস বা নৈতিক সম্মান নেই।” বিবৃতিতে মার্কিন হামলাকে ইঙ্গিত করে আরও বলা হয়, “মানুষকে হয়তো শারীরিকভাবে হত্যা করা যায়, কিন্তু তার বিপ্লবী আদর্শকে কখনোই স্তব্ধ করা যায় না। আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র মূলত একটি সুবাসিত আতরের বোতল ভেঙেছে, যার সুগন্ধ ও চেতনা এখন ইরান ছাড়িয়ে গোটা বিশ্বে আরও তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।”

কোমে পৌঁছেছে খামেনির মরদেহ, ইরাক ঘুরে মাশহাদে দাফন

এদিকে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হওয়া ইরানের দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও শোকযাত্রা বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপে পদার্পণ করেছে। রাজধানী তেহরানে বিশাল গণমিছিল ও জানাজা শেষে সোমবার বিশেষ হেলিকপ্টারে করে তাঁর মরদেহ শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র শহর কোমে (Qom) নিয়ে আসা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পবিত্র কোম শহরে খামেনির ঐতিহাসিক জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কোমে জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁর মরদেহ আন্তর্জাতিক প্রটোকলে বিশেষ বিমানে করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাকের পবিত্র শহর নজফ ও কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে ইরাকি ভক্ত ও শিয়া ধর্মাবলম্বীরা তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন। দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে ইরানের একচ্ছত্র শাসনভার পরিচালনাকারী এই নেতার চূড়ান্ত দাফন কার্য আগামী ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদ শহরের ইমাম রেজা মাজারে সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। দীর্ঘ ৪ মাস পর আয়োজিত এই জানাজাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।

সর্বশেষ - অপরাধ