বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে বৈশ্বিক দক্ষতা ও প্রযুক্তি যুক্ত করতে দেশের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩০ কোটি ডলার) বা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে তুরস্কের প্রখ্যাত টেক্সটাইল গোষ্ঠী ‘সানকো’। সেখানে প্রতিষ্ঠানটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত টেক্সটাইল উৎপাদন সুবিধা তৈরি করবে।
আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই, ২০২৬) সচিবালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সানকো প্রতিনিধি দলের এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই মেগা বিনিয়োগ রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।
বিনিয়োগ প্রস্তাব ও বৈঠকের সারসংক্ষেপ:
- সমন্বিত উৎপাদন হাব ও লক্ষ্যমাত্রা: প্রস্তাবিত এই সুবিধার মাধ্যমে উচ্চমূল্যের (Value-added) ফ্যাব্রিক উৎপাদন, টেক্সটাইল প্রসেসিং এবং তৈরি পোশাক পণ্যের একীভূত হাব গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটি চালু হলে আন্তর্জাতিক বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানসমূহ বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমানের টেক্সটাইল সামগ্রী সংগ্রহের সুযোগ পাবে।
- প্রকল্প সময়কাল ও স্থান নির্বাচন: সানকোর প্রতিনিধিরা জানান, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও জায়গা নির্বাচনের প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সহায়তা মিললে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নির্মাণ শুরু হয়ে ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে কারখানাটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু সম্ভব হবে।
- পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রতি গুরুত্ব: আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর পরিবেশগত চাহিদা পূরণে এই কারখানায় কয়লামুক্ত, গ্রিন এনভায়রনমেন্ট ও আধুনিক টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছে দলটি। প্রকল্পের মসৃণ বাস্তবায়নের স্বার্থে তারা বিদ্যুৎ, গ্যাস সংযোগ ও সরকারি লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার সহযোগিতা চেয়েছেন।
- সরকারের অবস্থান ও সুবিধা: মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির তুর্কি এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানান এবং সম্পূর্ণ সরকারি নীতিগত সহায়তার নিশ্চয়তা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) দেশের টেক্সটাইল খাতের প্রযুক্তিগত রূপান্তর ঘটাবে এবং মিরসরাই অঞ্চলে ব্যাপক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি করবে।
সানকোর এই উদ্যোগ কার্যকর হলে ঐতিহ্যবাহী ও প্রচলিত পোশাক উৎপাদনের পাশাপাশি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের ও উচ্চ প্রযুক্তির টেক্সটাইল হাব হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে পারবে।



















