সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আগামী আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ বহুল প্রতীক্ষিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সফলভাবে যুক্ত হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম. আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত আইসিটি টাওয়ারে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা চলাকালে তিনি সরকারের এই অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক সিদ্ধান্তের কথা জনসম্মুখে জানান. মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে. আর এ কারণেই প্রকল্পটি দ্রুত চালু করে দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট দূর করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে.
প্রকল্প চালুর অগ্রগতি ও রুশ বিজ্ঞানীদের নিরলস প্রচেষ্টা
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “সব ঠিক থাকলে আগস্টের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে পারবো, ইনশাআল্লাহ। এটি অত্যন্ত বড় একটি প্রকল্প। রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা আমাদের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে দিন-রাত কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। আল্লাহ চাইলে আগস্টের শেষেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার চেষ্টা করবো।” উল্লেখ্য, এই মেগা প্রকল্পের বাণিজ্যিক উৎপাদনের অংশ হিসেবে গত মে মাসে পাবনার রূপপুরে প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে অত্যন্ত সফলভাবে ও নিরাপদে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিংয়ের মূল কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের গুরুত্ব
মন্ত্রী প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও ঋণ পরিশোধের বিষয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান যে, ২০২৮ সাল থেকে এই মেগা প্রকল্পের মূল দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র ঋণের নিয়মিত সুদ (ইন্টারেস্ট) পরিশোধ করা হচ্ছে। যেহেতু ঋণের কিস্তি শুরুর সময় ঘনিয়ে আসছে, তাই দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বিনিয়োগের সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বলে মনে করেন মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।


















