রবিবার , ৫ জুলাই ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

যুদ্ধবিমান জটিলতা, মার্কিন সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় তুরস্ক

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ৫, ২০২৬ ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন ঐতিহাসিক ন্যাটো (NATO) সম্মেলনকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ডজনখানেক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন পাওয়ার বিষয়ে প্রবল আশাবাদী হয়ে উঠেছে আঙ্কারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আসন্ন রাষ্ট্রীয় সফর তুরস্কের বহুল প্রতীক্ষিত মার্কিন ইঞ্জিন প্রাপ্তির পথ সুগম করলেও দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের দীর্ঘদিনের মূল ফাটল—অর্থাৎ এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান সংক্রান্ত বিরোধের কোনো স্থায়ী সমাধান করতে পারবে না বলে মনে করছেন বৈশ্বিক সামরিক বিশ্লেষকেরা। আগামী ৭ ও ৮ জুলাই আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই উচ্চপর্যায়ের সামরিক সম্মেলনে ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানেরা অংশ নিতে যাচ্ছেন। এর আগে গত মাসে তুরস্কের এফ১১০ (F110) ইঞ্জিন কেনার প্রক্রিয়া এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে মার্কিন গণমাধ্যমে প্রশ্ন করা হলে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ‘খুব খুশি’ করার এক লড়াকু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ইস্তাম্বুলভিত্তিক প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এডাম’-এর পরিচালক সিনান উলগেন আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এএফপি-কে জানিয়েছেন যে, এই শীর্ষ সম্মেলনে তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের ‘কান’ (KAAN) যুদ্ধবিমানের জন্য আমেরিকার তৈরি জেনারেল ইলেকট্রিক এফ১১০ моделиর প্রায় ৪০টি ইঞ্জিন সরবরাহের বিষয়ে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত সবুজ সংকেত বা পলিটিক্যাল ক্লিয়ারেন্স দিতে পারে।

কানের জন্য মার্কিন ইঞ্জিন ও নিজস্ব প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা

তুরস্ক ইতিমধ্যে মার্কিন এই শক্তিশালী ইঞ্জিনের সাহায্যে তাদের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘কান’ যুদ্ধবিমানের কয়েকটি প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক সংস্করণ তৈরি করেছে, যা সফলভাবে আকাশে উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে। তবে কান প্ল্যাটফর্ম বা বিমান উৎপাদন লাইনকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার জন্য আঙ্কারা দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার কাছ থেকে অতিরিক্ত বড় চালানের ইঞ্জিন সরবরাহের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। উল্লেখ্য, ‘কান’ হলো একটি দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট স্টিলথ বা রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, যা তুরস্ক তাদের বিমানবাহিনীর পুরোনো এফ-১৬ বিমানের বহরকে সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপন করার জন্য দেশীয়ভাবে তৈরি করছে। এর মাধ্যমে আঙ্কারা বিশ্বের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করা এলিট দেশগুলোর বিশেষ ক্লাবে নিজেদের নাম লেখাতে চাইছে। যদিও তুরস্ক শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধবিমানে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ইঞ্জিন ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তবে সেই প্রকল্পটি এখনও প্রাথমিক নকশা তৈরির স্তরেই আটকে রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন এফ১১০ ইঞ্জিনটিতে কোনো উন্নত স্টিলথ বা রাডার-ডিফেন্স সক্ষমতা নেই। তুরস্ক গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম দফায় ১০টি এফ১১০ ইঞ্জিনের একটি চালান পেয়েছিল এবং আরও ৮০টি ইঞ্জিন ক্রয়ের জন্য মার্কিন সরকারের সাথে বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও এফ-৩৫ থেকে বহিষ্কারের প্রেক্ষাপট

তুরস্কের এই মার্কিন ইঞ্জিন পাওয়ার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার মূল কারণ ছিল ২০১৭ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে তাদের বিতর্কিত এস-৪০০ (S-400) অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার সিদ্ধান্ত। ক্রেমলিনের কাছ থেকে এই রুশ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার তুর্কি সিদ্ধান্তে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওয়াশিংটন ২০১৯ সালে আঙ্কারাকে বিলিয়ন ডলারের মাল্টি-রোল এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে সম্পূর্ণ বহিষ্কার করে। এর ঠিক এক বছর পর আমেরিকার পক্ষ থেকে সিএএটিএসএ বা ‘কাটসা’ (CAATSA) আইনের আওতায় তুরস্কের ওপর কঠোর সামরিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যা তুর্কি প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলোকে সামাজিকভাবে বাধাগ্রস্ত করে এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এক গভীর ফাটল ধরায়। আসন্ন ন্যাটো সম্মেলনে কান বিমানের জন্য ৪০টি ইঞ্জিন সরবরাহের পথ সুগম হলেও, রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র পুরোপুরি সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন কোনোভাবেই তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান হস্তান্তর করবে না বলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

সর্বশেষ - অপরাধ