বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে পারবে না এবং শিগগিরই দলটিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বা প্রচলিত আদালতে দল হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) আয়োজিত ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে এবং তাদের রাজনৈতিক দাফন হয়েছে ভারতের দিল্লিতে। গণ-অভ্যুত্থানের পর দলটির পলাতক নেতাকর্মীরা বিদেশে বসে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে নানা ধরনের গভীর ষড়যন্ত্র করলেও এ দেশের মাটিতে তাদের পুনর্বাসনের আর কোনো সুযোগ নেই।”
পর্দার অন্তরালে তারেক রহমানের ভূমিকা ও আন্দোলনের স্মৃতিচারণ
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সে সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমানের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা, সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও সূক্ষ্ম সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা নির্ঘুম রাত কাটিয়ে দলকে মাঠে সংগঠিত করেছিলাম। প্রাথমিকভাবে অরাজনৈতিক পরিচয়ে পরিচালিত সেই ছাত্র-জনতার আন্দোলন শেষ পর্যন্ত আমাদের সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক সহায়তায় সফলভাবে পরিসমাপ্তি লাভ করে এবং স্বৈরাচারের পতন ঘটে—এটি মূলত পর্দার অন্তরালের প্রকৃত সত্য।” দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
‘জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে কেউ যেন ব্যবসা না করে’
বিশেষ এই সম্মেলনে জুলাই আন্দোলনের চেতনা নিয়ে কেউ যাতে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত ফায়দা লোটার চেষ্টা না করে, সে বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের পবিত্র চেতনা নিয়ে কেউ যেন ব্যবসা না করি। চেতনা বিক্রি করা ভালো লক্ষণ নয়। অতীতে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ব্যবসা করেছিল, তাদের পরিণতি দেশবাসী দেখেছে। যারা নতুন করে জুলাইয়ের চেতনার ব্যবসা করবে, দেশের মানুষ অচিরেই তাদের পরিণতিও দেখবে।”
‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ এবং ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত আহত জুলাইযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানটিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন সভাপতিত্ব করেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।



















