বৃহস্পতিবার , ২ জুলাই ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ প্রমাণে নতুন নীলনকশা

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ২, ২০২৬ ৪:২৪ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মহলে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ হিসেবে চিত্রায়িত করে বর্তমান সরকারকে দুর্বল ও কোণঠাসা করার একটি সুগভীর ও বিপজ্জনক নীলনকশার তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, একটি প্রভাবশালী বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার প্রত্যক্ষ মদদে কক্সবাজারের মিয়ানমার সীমান্ত এবং বান্দরবানের দুর্গম পার্বত্য এলাকাকে কেন্দ্র করে এই চক্রান্তের সুনিপুণ ‘চিত্রনাট্য’ বা স্ক্রিপ্ট সাজানো হয়েছে। এই চক্রান্তের মূল লক্ষ্য হলো—আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠনের শাখা বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে, এমন একটি সাজানো অপতথ্য (ডিজইনফরমেশন) বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠা করা। চরম রাষ্ট্রবিরোধী এই বিপজ্জনক পরিকল্পনায় দেশীয় সহযোগী হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধি পর্দার আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

বিদেশি এজেন্সির সঙ্গে অনলাইন বৈঠক ও অর্থ জোগানের আশ্বাস

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমান বিএনপি সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে দুর্বল, প্রশ্নবিদ্ধ ও political-ভাবে ঘায়েল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা। সূত্রমতে, এই চক্রান্তের নীতিনির্ধারণী বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, শীর্ষ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা সম্পূর্ণভাবে অবগত আছেন। সম্প্রতি অনলাইনে অনুষ্ঠিত এক গোপন বৈঠকে গাজীপুরের সাবেক বিতর্কিত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এই ‘নাটক’ সফল করতে প্রয়োজনীয় সব অর্থ একাই জোগান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ওই বৈঠকে যুক্ত থাকা সূত্র জানায়, পুরো বিষয়টি ইতোমধ্যেই তাদের ‘নেত্রী’কেও (আওয়ামী লীগ সভানেত্রী) অবগত করা হয়েছে, তবে তথ্য ফাঁসের আশঙ্কায় সাধারণ স্তরের নেতাকর্মীদের এ থেকে দূরে রাখতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর রদবদল ও মাঠপর্যায়ে ছদ্মবেশী ‘প্রশিক্ষণ’ মিশন

ষড়যন্ত্রকারী চক্রটি মূলত মাঠপর্যায়ের একটি সাময়িক শূন্যতাকে ‘সুবর্ণ সুযোগ’ হিসেবে বেছে নিয়েছে। সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা থেকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং ডিজিএফআইয়ের সব কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়। এর ঠিক আগে, মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কক্সবাজার ও বান্দরবানে দায়িত্বরত এলিট ফোর্স র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়কসহ একযোগে ৬০০ জনেরও বেশি র‌্যাব সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পাহাড়ি অঞ্চলে এই নাটকের মূল স্ক্রিপ্ট বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ শফিউল্লাহকে। তাঁর ওপর দায়িত্ব রয়েছে—রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে দুর্গম অঞ্চলে ছদ্মবেশী ‘প্রশিক্ষণ’র ভিডিও ধারণ করা, যাতে বিশ্বকে দেখানো যায় বাংলাদেশে সশস্ত্র সংগঠনের তৎপরতা রয়েছে। ইতোমধ্যেই কিছু নির্দিষ্ট ভাড়াটিয়া লোকজনকে সীমান্তবর্তী এলাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগ নেতা শফিউল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এ প্রসঙ্গে আমি কিছুই জানি না। আর গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে আমার কোনোদিন দেখাও হয়নি, কথাও হয়নি।”

নজরদারিতে গোয়েন্দারা ও সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা

গোয়েন্দা সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, দেশের অভ্যন্তরে এমন নাটক সাজানোর বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না এবং জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ চলছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘কলেমার পতাকা’ উত্তোলনের যে হিড়িক দেখা গেছে, তা মূলত এই বড় ষড়যন্ত্রেরই একটি sudoor-prasari অংশ, যেখানে সরল ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে আন্তর্জাতিক মহলে ভিন্ন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম বলেন, “পৃথিবীর কোথাও আলোচিত সেই স্বাধীনতাকামী সংগঠনের আন্তর্জাতিক শাখা নেই। সম্প্রতি একজন ইসরাইলি কূটনীতিকের দেওয়া একটি বক্তব্যকে পুঁজি করে যদি এ দেশে কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বানোয়াট নাটক সাজানোর চেষ্টা করে, তবে তা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে গিয়ে এ ধরনের বিপজ্জনক খেলা খেললে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে।”

কক্সবাজার বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ এ প্রসঙ্গে স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা। এই সীমান্ত ব্যবহার করে কোনো গোষ্ঠী যেন দেশের স্থিতিশীলতা কিংবা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত অঞ্চলে কোনো ধরনের মিথ্যা নাটক সাজানোর অপচেষ্টা করা হলে তা অত্যন্ত কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং এ জন্য গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

সর্বশেষ - অপরাধ