চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শানঝি প্রদেশের চ্যাংশি শহরের লিউশেনইউ কয়লা খনিতে ভয়াবহ এক গ্যাস বিস্ফোরণে অন্তত ৯০ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও তীব্র দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রবিবার (২৪ মে) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক শোকবার্তায় তিনি বাংলাদেশ সরকার ও এ দেশের সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে চীনের সরকার, শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ এবং সে দেশের সাধারণ নাগরিকদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বার্তায় বলেন, এই চরম বিপদের মূহূর্তে বাংলাদেশ তার দীর্ঘদিনের বন্ধু রাষ্ট্র চীনের পাশে রয়েছে এবং এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা, চিকিৎসাধীন আহতদের জরুরি সেবা প্রদান এবং বিস্ফোরণের কারণ উদঘাটনে চীনের স্থানীয় প্রশাসনের চলমান তদন্ত ও প্রচেষ্টাকে বিশেষভাবে সাধুবাদ জানাচ্ছে। একই সাথে তিনি এই বুকফাটা ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে খনির অভ্যন্তরে আটকা পড়া ও নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধানে যে বীর উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসকেরা রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, তাঁদের সার্বিক সুরক্ষা ও সাফল্যের জন্য আন্তরিক প্রার্থনা করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সবাই যেন এই কঠিন শোক কাটিয়ে উঠতে ধৈর্য, সাহস ও মানসিক সান্ত্বনা খুঁজে পান—সেই কামনা করেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২২ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটে শানঝি প্রদেশের কয়লা খনিটিতে এই প্রলয়ঙ্কারী গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা গত ১৭ বছরের মধ্যে চীনের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম খনি বিপর্যয়। দুর্ঘটনার সময় মাটির নিচে খনির গভীর তলদেশে মোট ২৪৭ জন খনি শ্রমিক নৈশকালীন শিফটের কাজে নিয়োজিত ছিলেন, যার মধ্যে বিস্ফোরণের পরপরই বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় বহু শ্রমিক দমবন্ধ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই পৈশাচিক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৯০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং খনির ভেতর থেকে আরও ২০১ জন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করে স্থলের ওপরে আনা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে প্রায় ১২৩ জন শ্রমিককে মারাত্মক দগ্ধ ও বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত অবস্থায় চ্যাংশি শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই ঘটনার পর জরুরি ভিত্তিতে নিখোঁজদের উদ্ধারে ‘সর্বোচ্চ শক্তি’ নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন এবং খনি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘শানঝি তংঝৌ গ্রুপ’-এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করে ঘটনার পেছনে কোনো নিরাপত্তা গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।



















