প্রতি বর্ষা মৌসুমে দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “পৃথিবীতে যে নতুন শিশু আসবে, সেই নবাগতকে স্বাগত জানিয়েও আমাদের একটি করে গাছ লাগাতে হবে। মানুষের জীবদ্দশায় প্রতি বছর প্রত্যেকের অন্ততঃ একটি করে গাছ লাগানো উচিত।” আজ সোমবার (২৯…
সৌদি আরবের ‘জিয়া ট্রি’ এবং মহানবীর (সা.) সুন্নাহর উদাহরণ
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বৃক্ষরোপণের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে দুটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ দেন:
- সৌদি আরবের ‘জিয়া ট্রি’: প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন যে, প্রায় ৫০ বছর আগে সৌদি আরবের ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে কোনো গাছপালা বা ছায়ার ব্যবস্থা ছিল না। সম্ভবত ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ওমরাহ পালন করতে গিয়ে হাজিদের তীব্র গরম থেকে রক্ষা করতে তৎকালীন সৌদি বাদশাকে সেখানে নিমগাছ রোপণের বৈজ্ঞানিক পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১ লাখ নিমগাছের চারা সৌদি আরবে পাঠানো হয়। আরাফাতের ময়দানে ছায়া দেওয়া সেই গাছগুলোকে আজ সৌদি আরবের মানুষ ভালোবেসে ‘জিয়া ট্রি’ ($Zia\ Tree$) নামে ডাকে।
- ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি ও সুন্নাহ: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দেন যে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে প্রচুর গাছ রোপণ করেছেন এবং উম্মতকে বৃক্ষরোপণের তাগিদ দিয়ে গেছেন। সবুজ রঙ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় ছিল। গাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের এক অদ্ভুত মানসিক ভালোলাগা তৈরি হবে যা তাদের পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল করবে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ রক্ষায় জরুরি বার্তা
প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তন হচ্ছে। আগে বাংলাদেশে বর্ষাকাল দীর্ঘ সময় ধরে থাকলেও এবং টানা বৃষ্টিপাত হলেও এখন তা আর দেখা যাচ্ছে না। প্রয়োজন কিংবা অপ্রয়োজনে নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে আমাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এ দেশেই আমাদের বাঁচতে হবে। আমার নিজের ঘর যদি আমি সুন্দর করে গুছিয়ে না রাখি, তবে আমি নিজেই একটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করব, যা আমাদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি করবে। দেশে যত বেশি গাছ বাড়বে, পরিবেশ তত ঠাণ্ডা ও আরামদায়ক হবে।”
বিএনসিসি-কে দেশের দ্বিতীয় সারির প্রতিরক্ষা শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (BNCC)-এর চৌকস দলের কাছ থেকে ‘গার্ড অব অনার’ গ্রহণ করেন। বিএনসিসির প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক জনপ্রতিরক্ষা ধারণার সাথে বিএনসিসির ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এ কারণেই এই সংগঠনটিকে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সারির চালিকা ও প্রতিরক্ষা শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সরকার দেশের সর্বস্তরের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিএনসিসির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ এবং অধিক সংখ্যক তরুণ-তরুণীকে এতে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে। ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করতে যথাযথ রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ ও পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা হবে, যা তরুণ সমাজের নৈতিক বিকাশ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং গভীর দেশপ্রেম জাগ্রত করতে অনন্য অবদান রাখবে।
বঙ্গবন্ধু-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের বাইরে আয়োজিত এই মেগা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


















