রবিবার , ২৮ জুন ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

ইরানে দ্বিতীয় দফায় রাতভর মার্কিন হামলা

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ২৮, ২০২৬ ৪:৩৯ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির সমঝোতা ভেঙে দিয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের মূল ভূখণ্ডের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে রাতভর তীব্র সামরিক বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী। হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে আত্মঘাতী ড্রোন হামলার ঘটনার পর, তার সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আজ রোববার (২৮ জুন) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে গত ১৭ জুন উভয় দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও, সাম্প্রতিক এই ধারাবাহিক হামলা ও পাল্টা হামলায় সেই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার চরম আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ট্রাম্পের নির্দেশে সেন্টকমের অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী কমান্ড ‘ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড’ (CENTCOM) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে সর্বশেষ এই ভয়াবহ সামরিক হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালিসহ আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ধারাবাহিক সশস্ত্র আগ্রাসন ও আন্তর্জাতিক নৌ-আইন লঙ্ঘনের উপযুক্ত জবাব হিসেবেই এই বিমান অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ অভিযানে ইরানের উপকূলীয় সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, শক্তিশালী যোগাযোগব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন (UAV) সংরক্ষণাগার এবং সমুদ্রসীমায় মাইন স্থাপনের বিশেষ সক্ষমতাগুলোকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু (Target) করে ধ্বংস করা হয়েছে।

এদিকে আল জাজিরা ও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের কৌশলগত সিরিক বন্দরের কাছে অবস্থিত তাহরুই গ্রামের আশপাশে অন্তত এক ডজন শক্তিশালী বিস্ফোরণের বিকট শব্দ পাওয়া গেছে, যেখানে গত শুক্রবারও প্রথম দফায় মার্কিন বোমারু বিমান হামলা চালিয়েছিল। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির প্রবেশদ্বারে অবস্থিত পারস্য উপসাগরের বিখ্যাত ‘কেশম দ্বীপে’ অবস্থিত ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) নৌঘাঁটিতেও ব্যাপক মার্কিন হামলার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

টানা দ্বিতীয় রাতের এই হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক অত্যন্ত আক্রমণাত্মক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চরম সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি অবিলম্বে ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্ত ও প্রত্যাশা পূরণ না করে, তাহলে এই আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও বড় ধরনের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য সম্পূর্ণভাবে তেহরানকে দায়ী করে ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরান মনে হয় কখনোই শিক্ষা নেবে না। তাদের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এভাবে চলতে থাকলে আমরা আর কোনো ধৈর্য ধরতে পারব না। আমরা যে সামরিক অভিযান সফলভাবে শুরু করেছি, তা চূড়ান্তভাবে শেষ করতে বাধ্য হব। আর এমনটা যদি সত্যিই করতে হয়, তবে পৃথিবীর বুকে ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের (Islamic Republic of Iran) আর কোনো রাজনৈতিক বা ভৌগোলিক অস্তিত্ব থাকবে না।” তবে মার্কিন এই দাবির বিপরীতে ইরানও যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের জন্য হোয়াইট হাউসের আগ্রাসী নীতিকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

পানামার পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার ‘কিকু’র ওপর আত্মঘাতী ড্রোন হামলা

এর আগে শনিবার ভোরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় পানামার পতাকাবাহী এবং জাপানি মালিকানাধীন বিশাল তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘কিকু’ অজ্ঞাত স্থান থেকে উড়ে আসা একটি প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ভাগ্যবশত জাহাজে থাকা কোনো নাবিক বা ক্রু আহত হননি এবং ট্যাঙ্কারে থাকা তেলেরও বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। সেন্টকম নিশ্চিত করেছে যে, ট্যাঙ্কারটি মধ্যপ্রাচ্যের আল শাহীন তেলক্ষেত্র থেকে ২০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বহন করে রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল এবং পথিমধ্যে এটি মূলত ইরানের তৈরি একটি শক্তিশালী ‘আত্মঘাতী ড্রোনের’ (Kamikaze Drone) আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা এই নতুন মার্কিন সামরিক সংঘাতের মূল সূত্রপাত ঘটায়।

সূত্র: আল জাজিরা

সর্বশেষ - অপরাধ