ইংলিশ চ্যানেলে রাশিয়ার ‘ছায়া বহরের’ একটি বিশাল তেল ট্যাঙ্কার আটক করেছে যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনী। স্থানীয় সময় রবিবার ভোররাতে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে ট্যাঙ্কারটিকে আটক করা হয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই সফল অভিযানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘স্মির্টোস’ নামের এই তেল ট্যাঙ্কারটিকে বর্তমানে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে গভীর তদন্ত চলছে।
রয়্যাল মেরিন ও এয়ার ফোর্সের সমন্বিত অভিযান
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, রবিবার ভোরে প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালনা করা হয়। ব্রিটিশ রয়্যাল মেরিন কমান্ডো এবং ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই ট্যাঙ্কারটিতে চড়াও হন। এই অভিযানে রয়্যাল এয়ার ফোর্স (RAF) তাদের সরাসরি সহায়তা প্রদান করে।
অভিযানটি সফল করতে যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি লক্ষ্য করা গেছে। এতে অংশ নেয়:
- যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম এয়ার গ্রুপের অত্যাধুনিক বিমান।
- রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (RAF) একটি পি-৮ বিমান।
- একই সাথে সমুদ্রসীমায় কড়া পাহারায় থাকা দুটি যুদ্ধজাহাজ—‘এইচএমএস সাদারল্যান্ড’ ও ‘এইচএমএস লেডবেরি’।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, রবিবার ভোরের এই জটিল অভিযানটি ফ্রান্সের সামরিক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে, যা মিত্রদের প্রতি যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক পারস্পরিক সহায়তারই একটি অংশ।
শীর্ষ ব্রিটিশ নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া
এই সফল অভিযানের পর যুক্তরাজ্যের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব পুতিন প্রশাসনের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন:
- প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই সফল অভিযান রাশিয়ার জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা। ইউক্রেনে পুতিনের যুদ্ধকে যারা উসকানি দিচ্ছে, এটি তাদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা যে আমরা তাদের কোনোভাবেই লুকিয়ে থাকতে দেব না।”
- প্রতিরক্ষামন্ত্রী ড্যান জারভিস: ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ড্যান জারভিস এই পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “ইউক্রেন সংঘাতের অর্থায়নের জন্য রাশিয়া মূলত তার এই অবৈধ ছায়া বহরের ওপর চরমভাবে নির্ভর করে। আমাদের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ পুতিনের অবৈধ যুদ্ধে একটি বড় ধরনের আঘাত।”
রাশিয়ার ‘ছায়া বহর’ ও ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা
রাশিয়া তাদের তেল রফতানির ওপর আন্তর্জাতিক মহলের আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে দীর্ঘদিন ধরে অস্পষ্ট মালিকানা কাঠামোর ট্যাঙ্কার নিয়ে এই বিশেষ ‘ছায়া বহর’ পরিচালনা করে আসছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্যমতে, রাশিয়ার ওপর নিষিদ্ধ তেলের প্রায় ৭৫ শতাংশ বহনের জন্য এককভাবে দায়ী এই ছায়া বহর, যার মধ্যে বর্তমানে ৭০০টিরও বেশি জাহাজ সক্রিয় রয়েছে। এই পুরো ব্যবস্থাটি ক্রেমলিনের যুদ্ধকালীন অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে।
| খাত ও বিষয় | ব্রিটিশ সরকারের গৃহীত আইনি পদক্ষেপ |
| জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা | ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রের অর্থায়ন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে এবং রাশিয়ার তেলের রাজস্বকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে ৫০০টিরও বেশি জাহাজের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। |
| বন্দরে প্রবেশ ও সেবা নিষিদ্ধ | এই নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত জাহাজগুলোর যুক্তরাজ্যের যেকোনো বন্দরে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। |
| আর্থিক ও বীমা নিষেধাজ্ঞা | পাশাপাশি ব্রিটিশ কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির জন্য রাশিয়ান তেল সরবরাহকারী বা বিতরণকারী জাহাজগুলোকে আর্থিক লেনদেন, আন্তর্জাতিক বীমা বা ব্রোকারেজ সেবা দেওয়ার ওপরও কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। |



















