ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়, জানাজা এবং দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে একাধিক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইরান. খামেনির রচনাবলি সংরক্ষণ ও প্রকাশনা বিষয়ক দপ্তর থেকে এই বিশেষ সূচি প্রকাশ করা হয়েছে এবং দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির খবরে বিস্তারিত কর্মসূচিটি নিশ্চিত করা হয়েছে.
ঘোষিত আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সময়সূচি
সাবেক সর্বোচ্চ নেতার মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন থেকে শুরু করে দাফন পর্যন্ত নিম্নোক্ত দিন ও স্থানসমূহ নির্ধারণ করা হয়েছে:
- শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন (৪ ও ৫ জুলাই): আগামী ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানের বিখ্যাত ইমাম খোমেইনি মোসাল্লাতে প্রয়াত নেতার প্রতি সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে.
- তেহরানে জানাজার যাত্রা (৬ জুলাই): শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষ হওয়ার পরদিন, অর্থাৎ ৬ জুলাই তেহরান শহরে তাঁর প্রথম জানাজার বিশাল শোকযাত্রা বের করা হবে.
- কওম ও মাশহাদে জানাজার যাত্রা (৭ ও ৯ জুলাই): এর পরবর্তী ধাপে ৭ জুলাই কওম এবং ৯ জুলাই মাশহাদে পৃথক পৃথক জানাজার শোকযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে.
- দাফন সম্পন্নকরণ: সমস্ত জানাজা ও শোকযাত্রা শেষে খামেনিকে পবিত্র ইমাম রেজার মাজারে দাফন করা হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে চূড়ান্তভাবে জানানো হয়েছে.
আয়োজক দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই বিবৃতিতে ইরানের সাধারণ জনগণসহ বিশ্বের সমস্ত স্বাধীনচেতা মানুষ, ইসলামের অনুসারী এবং ইরানের শুভাকাঙ্ক্ষী সকলকে এই শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানগুলোতে সশরীরে অংশ নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে.
দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের নেতৃত্ব ও অবসান
ইরানের আধুনিক ইতিহাসে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাজনৈতিক অধ্যায় অত্যন্ত দীর্ঘ ও প্রভাবশালী:
- দায়িত্ব গ্রহণ (১৯৮৯ সাল): ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন.
- নেতৃত্বের সময়কাল ও মৃত্যু: ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এক আকস্মিক যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি দীর্ঘ ৩৬ বছর ছয় মাস অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন.
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই



















