যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে ঘড়ির কাঁটা ১২টা ১ মিনিট ছোঁয়ার সাথে সাথেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর ঠিক কয়েক মিনিট পরেই ১২টা ৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁরা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং প্রধানমন্ত্রী ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন।
সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তাঁর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা জানান। এ সময় ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমদসহ দলের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে জাইমা রহমানও এই সময় শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নেন।
তিন বাহিনী ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের ধারায় তিন বাহিনীর প্রধান—সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। বিদেশি কূটনীতিক এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিরোধী দল ও জামায়াতের ঐতিহাসিক উপস্থিতি এবারের একুশের ভোরে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। বিরোধী দল হিসেবে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে রাত ১১টা ২৩ মিনিটে শ্রদ্ধা জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। এ সময় বিরোধী দলীয় হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনার চত্বর সর্বস্তরের জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।



















