শনিবার , ৬ জুন ২০২৬ | ৪ঠা আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষা, পে-স্কেল নিয়ে বড় দুঃসংবাদ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ৬, ২০২৬ ১:১৬ অপরাহ্ণ

Spread the love

দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আশা-নিরাশার দোলাচল আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আগামী ১ জুলাই থেকে বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল কার্যকরের জোরালো প্রত্যাশা থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নতুন পে-স্কেল নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব তথ্য সামনে এসেছে, তার সবই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রের। কোনো মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কিংবা পে-কমিশনের কোনো সদস্য এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে থাকা একই ধরনের অস্পষ্টতা বর্তমানেও অব্যাহত থাকায় চাকরিজীবীদের মনে প্রশ্ন উঠছে, ১ জুলাই থেকে আদৌ পে-স্কেল কার্যকর হবে কি না এবং হলেও তা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে।

কল্যাণ সমিতির প্রতিক্রিয়া ও প্রধান দাবি

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক কর্মচারীদের মনের ভেতরের ভয় ও অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন যে, অর্থ মন্ত্রণালয় বা অর্থ-সচিবের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য আসেনি। তিনি মনে করিয়ে দেন, নির্বাচনী ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এলে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে নবম পে-স্কেল ‘ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের’ খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কল্যাণ সমিতি。 গত ৩১ মে সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্য-সচিব আশিকুল ইসলামের পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকরের জোর দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ বছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতনে কোনো মৌলিক পরিবর্তন না এলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যার ফলে অনেক নিম্নপদস্থ কর্মচারী জীবিকার তাগিদে চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত খণ্ডকালীন কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিন ধাপে বাস্তবায়নের খসড়া পরিকল্পনা

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও দায়িত্বশীল সরকারি সূত্রের আভাস অনুযায়ী, নতুন এই বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের তিনটি অর্থবছর লেগে যেতে পারে:

  • প্রথম ধাপ (১ জুলাই): খসড়া পরিকল্পনা অনুসারে, সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন মূল বেতনের ৫০ শতাংশ সুবিধা পেতে পারেন।
  • দ্বিতীয় ধাপ (পরবর্তী অর্থবছর): মূল বেতনের বাকি ৫০ শতাংশ সুবিধা এই ধাপে কার্যকর করা হতে পারে।
  • তৃতীয় ধাপ (২০২৮-২৯ অর্থবছর): নতুন পে-স্কেলের আওতাধীন বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

সংগঠনের নেতারা বলছেন, অতীতে পে-স্কেল কার্যকরের আগে ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হতো এবং প্রথম ধাপে শতভাগ মূল বেতন ও দ্বিতীয় ধাপে অন্যান্য ভাতা চালু করা হতো; তারা এবারও সেই একই পদ্ধতি অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন।

বাজেট অধিবেশনেই মিলবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

এই দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটতে পারে আগামী সপ্তাহেই। রাষ্ট্রপতির আহ্বানে আগামী ৭ জুন বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। এরপর আগামী ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে উপস্থাপন করবেন। সেদিনের বাজেট বক্তৃতায় ও বাজেট বরাদ্দের মধ্য দিয়েই চূড়ান্তভাবে স্পষ্ট হবে— সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের প্রকৃত অবস্থান কী এবং বিদ্যমান শঙ্কা কতটা কাটবে।

সর্বশেষ - অপরাধ