ঐতিহাসিক ভোট ও গণভোটের ক্ষণগণনা বহু প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের ওপর গণভোট আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)। আজ বুধবার সকাল থেকেই ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম ও ব্যালট পেপার পাঠানোর কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ৩০০ আসনের মধ্যে কেবল শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে নির্বাচন স্থগিত থাকায় ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ চলবে। আগামীকাল সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভোটাররা সরাসরি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে তাঁদের রায় প্রদান করবেন। এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন প্রধান দুটি জোটসহ ৫১টি রাজনৈতিক দল এবং বিপুল সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন।
নিরাপত্তায় প্রযুক্তির ‘ত্রিনয়ন’ ও বিশাল বাহিনী নির্বাচনী ইতিহাসে এবারই প্রথম সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার চাদরে দেশকে ঢাকতে প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে উন্নত প্রযুক্তির ‘ইউএভি’ বা ড্রোন, ২৫ হাজার বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, সন্ত্রাস ও সহিংসতা রোধে ইতিমধ্যে ৮৫০টিরও বেশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রে বাড়তি নজরদারি ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন রাখা হয়েছে।
ভোটার পরিসংখ্যান ও উৎসবের আমেজ এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন, যার মধ্যে নারী ও পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান। ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন এই বিশাল জনসমষ্টি। ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, ঢাকা ছেড়ে মানুষের নাড়ির টানে গ্রামে ফেরার যে ঢল দেখা গেছে, তা একটি উচ্চ ‘ভোটার টার্নআউট’ বা উপস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এবারের নির্বাচনকে ‘জেন-জি’ অনুপ্রাণিত নির্বাচন হিসেবেও দেখা হচ্ছে, যেখানে তরুণ ভোটারদের ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে দেশবাসীকে অভয় দিয়ে নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার ও কমিশন।


















