শুক্রবার , ২৯ মে ২০২৬ | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

দাম না পেয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চামড়া অবমাননা

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
মে ২৯, ২০২৬ ১:০৪ অপরাহ্ণ

Spread the love

পবিত্র ঈদুল আজহার বরকতময় ক্ষণ পেরিয়ে যাওয়ার পর দেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী ও শীর্ষস্থানীয় অর্থকরী সম্পদ কাঁচা চামড়ার বাজারে চরম ধস নেমেছে. সরকার নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে বাজারদরের বিস্তর ফারাক থাকায় এবং সিন্ডিকেটের কারসাজিতে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চামড়া রাস্তায় ফেলে দেওয়া, নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া কিংবা মাটিতে পুঁতে ফেলার মতো অত্যন্ত দুঃখজনক ও পীড়াদায়ক চিত্র সামনে এসেছে. বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিন রাত থেকে শুরু করে শুক্রবার (২৯ মে) দুপুর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা এবং দেশের প্রান্তিক অঞ্চলগুলো থেকে পাওয়া তথ্যে চামড়া শিল্পের এই চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র ফুটে উঠেছে. অথচ সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ করা সম্ভব হলে এই বিপুল পরিমাণ চামড়া দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও অর্জন করতে পারত.

রাজধানীর মিরপুর কাজীপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে মিরপুর ১০ নম্বরের দিকে যাওয়ার পথে রাস্তার পাশে বেশ কিছু কাঁচা চামড়া পরিত্যক্ত অবস্থায় স্তূপ আকারে পড়ে থাকতে দেখা গেছে. ঈদের দিন রাত ৯টার পর থেকে এই চামড়াগুলো সেখানে পড়ে থাকলেও এর কোনো প্রকৃত মালিক বা দাবিদার খুঁজে পাওয়া যায়নি. আশপাশের চায়ের দোকানদার বা পথচারীরাও চামড়াগুলো কারা সেখানে ফেলে গেছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি. ঢাকার মাদরাসা, এতিমখানা ও মৌসুমি চামড়া সংগ্রহকারীদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাস্তব বাজারদরের কোনো মিল নেই. অন্যদিকে ট্যানারি মালিকদের পূর্বের বকেয়া পরিশোধ না করা এবং তীব্র নগদ অর্থসংকটের কারণে আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত চামড়া কিনতে পারেননি, যার ফলে বাজারে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে. লালবাগের ঐতিহ্যবাহী পোস্তা আড়তে বড় চামড়া সর্বোচ্চ ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে এবং সামান্য কাটা বা ছিদ্র থাকলে তা ১০০ থেকে ২০০ টাকায় নেমে গেছে, যা বিক্রেতাদের মাঝে তীব্র হতাশার জন্ম দিয়েছে. যদিও ঈদের দিন প্রথম দিকে পোস্তায় বড় চামড়া ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকা এবং মাঝারি চামড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, তবে রাতের দিকে সিন্ডিকেটের প্রভাবে ভালো চামড়ার দামও ৫০০ টাকায় নেমে আসে এবং ত্রুটিযুক্ত চামড়া কেউ কিনতেই চায়নি.

ঢাকার বাইরে ঢাকার বাইরের পরিস্থিতি ছিল আরও বেশি শোচনীয়. বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়ার আশায় চামড়া ধরে রাখলেও শেষ পর্যন্ত আশানুরূপ দাম না পেয়ে অনেকেই চামড়া রাস্তায় ফেলে কিংবা আড়তে ফেলে রেখে চলে গেছেন. সাতক্ষীরা জেলায় চামড়া বিক্রি করতে না পেরে চরম লোকসান ও দুর্গন্ধের হাত থেকে বাঁচতে মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন স্থানে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেছে. শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন থেকে আনা বেশ কিছু কাঁচা চামড়া বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নীলডুমুর খেয়াঘাট এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর পাড়ে পরিত্যক্ত স্তূপ আকারে পড়ে থাকতে দেখা গেছে. এছাড়া সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় চামড়ার বাজারে ব্যাপক ধস নামায় এবং কোনো ক্রেতা না পাওয়ায় অনেকেই উপজেলা সদরে চামড়া ফেলে গেছেন কিংবা স্থানীয় মাদরাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে দান করে দিয়েছেন. ঢাকাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি থিংক অ্যান্ড ইকোনোমিক রিসার্চ সেন্টারের (পিটিইআরসি) চেয়ারম্যান মো. মাজেদুল হক সাতক্ষীরা থেকে এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত পীড়াদায়ক ও জাতীয় সম্পদের অপচয় বলে অভিহিত করেছেন.

অথচ এই চামড়া সংগ্রহের জন্য সরকারি পর্যায়ে নানা প্রস্তুতি ও নীতিগত নির্দেশনা ছিল. প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার দেশে চাহিদা ছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি পশুর, যার বিপরীতে কোরবানিযোগ্য পশুর সরবরাহ ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি (যার মধ্যে ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি গরু-মহিষ এবং ৬৬ লাখ ৩২-৩০৭টি ছাগল-ভেড়া). বছরের মোট চামড়ার প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশই আসে এই কোরবানি থেকে এবং এর সিংহভাগ কোরবানি হয় ঢাকা বিভাগে. এ বছর গরুর কাঁচা চামড়ার দর ঢাকার ভেতরে প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭…৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, পাশাপাশি খাসির চামড়া ২৫…৩০ টাকা নির্ধারিত ছিল. ঈদের দিন দুপুরে ঢাকার আমিনবাজারের চামড়া বিক্রয়কেন্দ্র আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করে শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছিলেন যে, কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা চামড়ার অপচয় যাতে না ঘটে সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে এবং চামড়া সংরক্ষণে লবণ সরবরাহ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে. এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকও ট্যানারি মালিকদের চামড়া কেনার সুবিধার্থে ২০২৬ সালের ঋণ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ২০export২৫ সালের ঈদুল আজহার তুলনায় কম না করার নির্দেশনা দিয়েছিল. কিন্তু খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ট্যানারি মালিকরা এই ঋণ পেলেও তা পোস্তার আড়তদারদের অগ্রিম দাদন হিসেবে না দেওয়ায় মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীরা কাঁচা চামড়া কিনতে পারেননি, যার ফলেই দেশজুড়ে চামড়া অবহেলা ও অপচয়ের এই দুঃখজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে.

সর্বশেষ - অপরাধ