রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির অবুজ শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় আসামিপক্ষের আইনি সহায়তার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে ‘স্টেট ডিফেন্স’ (রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা) আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার (২৪ মে) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ (জিপি-জিপি শাখা) থেকে এ সংক্রান্ত একটি সরকারি আদেশ জারি করা হয়। আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন এই স্পর্শকাতর মামলায় আসামিপক্ষের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে মামলা পরিচালনার জন্য ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির অন্যতম সিনিয়র সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে; আইনানুযায়ী কোনো জঘন্য অপরাধের মামলায় আসামির আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য না থাকলে বা আইনজীবী না থাকলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে রাষ্ট্র নিজ খরচে এই আইনজীবী পদায়ন করে থাকে।
এদিকে, শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিকভাবে ধর্ষণের পর পৈশাচিক কায়দায় গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গতকাল রবিবার দুপুরেই ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে নিখুঁত ও চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে এই চার্জশিটটি দাখিল করেন। শুনানির পর আদালত চার্জশিটটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে মামলাটি দ্রুত চূড়ান্ত বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের আদেশ দেন। দাখিলকৃত এই অভিযোগপত্রে মূল ঘাতক সোহেল রানার বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে এই অপরাধ সংঘটনে সরাসরি লজিস্টিক ও পারিপার্শ্বিক সহযোগিতা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে আগামী ১ জুন ট্রাইব্যুনালে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন বা অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।


















