আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানী ঢাকা অভিমুখে আসা কোরবানির পশুবাহী ট্রাকের চাপ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ শুক্রবার (২২ মে) সকাল ৯টার দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন সার্বিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ঈদযাত্রা ও পশুবাহী ট্রাক পারাপার সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন করতে ঘাট কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ঘাটে কোরবানি পশুবাহী ট্রাকগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে সরাসরি ফেরিতে ওঠানো হচ্ছে এবং বর্তমানে নৌরুটে পর্যাপ্ত সংখ্যক ফেরি সচল থাকায় পশুবাহী কোনো গাড়িকে ঘাটের টার্মিনালে বা সড়কে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে না; কেবল ফেরি লোড হতে যেটুকু স্বাভাবিক সময় লাগছে, সেটুকুই। ঘাট কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ২ হাজার ১৩৫টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন পদ্মা নদী পার হয়েছে, যার মধ্যে শুধু রাজধানী অভিমুখী পশুবাহী ট্রাকেরই সংখ্যা ছিল ৪২৩টি। বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তা আরও ধারণা প্রকাশ করেন যে, ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঢাকা ও এর আশপাশের পশুর হাটের উদ্দেশ্যে পশুবাহী ট্রাকের আগমন ও চাপ তত বেশি বৃদ্ধি পাবে, তবে সাধারণ ঘরমুখো যাত্রী ও অন্যান্য দূরপাল্লার যানবাহন পারাপারের জন্যও ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত ও সুসংহত প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, পশুবাহী ট্রাকগুলোর সড়ক ও মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশ যৌথভাবে কঠোর নজরদারি বজায় রাখছে। রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ এই বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কোরবানির পশুবাহী কোনো গাড়িকে পুলিশ কিংবা অন্য কোনো পক্ষ যেন সড়কে অপ্রয়োজনে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে না আটকায়, সে ব্যাপারে স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং পশুবাহী ট্রাকে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া মাত্রই রাজবাড়ী জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট হাইওয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।



















