প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আজ সোমবার (৬ এপ্রিল, ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ন কবির সংবাদমাধ্যমকে আলোচনার মূল বিষয়গুলো অবহিত করেন:
১. জ্বালানি সহযোগিতা ও পাইপলাইনে ডিজেল
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিজেল আমদানি।
- জ্বালানি নিরাপত্তা: বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই পাইপলাইন প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
- সাশ্রয়ী সরবরাহ: ভারত থেকে সরাসরি পাইপলাইনে ডিজেল আসলে পরিবহন খরচ কমার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২. দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন মোড়
উপদেষ্টা হুমায়ন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন:
- অতীতের সমাপ্তি: শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের যে ধরনের সম্পর্ক ছিল, সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভূমিকা এখন শেষ।
- ইতিবাচক সমাধান: দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক ও সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় থাকলে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
৩. পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর ও সীমান্ত হত্যা
আগামীকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ‘ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স’-এ যোগ দিতে ভারত সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। এই সফর নিয়ে হুমায়ন কবির জানান:
- উচ্চপর্যায়ের বৈঠক: সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- সীমান্ত ইস্যু: বৈঠকে দেশের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত হত্যা বন্ধসহ সকল অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে জোরালো আলোচনা করা হবে।
৪. আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কানেক্টিভিটি
সাক্ষাৎকালে দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দুই দেশের মধ্যে কানেক্টিভিটি (যোগাযোগ ব্যবস্থা) বাড়ানোর বিষয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের করিডোর ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
বর্তমান সরকারের এই কূটনৈতিক তৎপরতা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



















