বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বৈঠকের প্রারম্ভিক বক্তব্যে ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টকে তাঁর ‘বন্ধু’ এবং এক ‘মহান নেতা’ হিসেবে সম্বোধন করে বলেন, অতীতে দুই দেশের সব জটিলতা তাঁরা ফোনালাপের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করেছেন। তবে এই সম্মেলন প্রতীকী অর্থে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ হলেও বাণিজ্য, তাইওয়ান ইস্যু কিংবা চলমান ইরান যুদ্ধের মতো জটিল বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো নাটকীয় সাফল্যের সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাণিজ্যিক এজেন্ডা ও বড় ব্যবসায়ী দল: অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে ট্রাম্প তাঁর এই সফরে টেসলার ইলোন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াংয়ের মতো বিশ্বখ্যাত শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য হলো চীনের কাছে মার্কিন কৃষিপণ্য ও যাত্রীবাহী বিমান বিক্রির চুক্তি ত্বরান্বিত করা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন গত বছরের মতো কোনো শুল্ক বা বাণিজ্য যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য একটি স্থায়ী দ্বিপাক্ষিক বোর্ড গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে মার্কিন এজেন্ডায়।
‘থুসিডাইডস ট্র্যাপ’ ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা: চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে ‘থুসিডাইডস ট্র্যাপ’ বা উদীয়মান শক্তির সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত শক্তির অনিবার্য সংঘাতের তত্ত্বটি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দুই পরাশক্তি কি এই ঐতিহাসিক ফাঁদ এড়িয়ে সম্পর্কের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে? শি জিনপিং জোর দিয়ে বলেন, মানবজাতির ভবিষ্যতের স্বার্থে দুই দেশের সংঘাতের বদলে সহযোগিতার পথে হাঁটা উচিত, বিশেষ করে চলমান ইরান যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রভাব মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টা জরুরি।
অমীমাংসিত জটিল ইস্যুসমূহ: সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের মাঝেও বেশ কিছু অমীমাংসিত ইস্যু এই আলোচনার টেবিলে ছায়া ফেলছে। তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন এবং ফেনটানিল পাচার রোধে বেইজিংয়ের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তোষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে। দুই দিনব্যাপী এই শীর্ষ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। শুক্রবার দুপুরে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি একান্ত ব্যক্তিগত বৈঠকের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প তাঁর এই ঐতিহাসিক বেইজিং সফর শেষ করবেন।
সূত্র: এনডিটিভি



















