বড় ধরনের ভূমিকম্পে পুরান ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের বহু ভবন ধসে পড়ার মতো ভয়াবহ ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার প্রায় ছয় লাখ ভবন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, যার অধিকাংশই পুরান ঢাকার পুরোনো ও বিধিবহির্ভূতভাবে নির্মিত স্থাপনা। জনসংখ্যার ঘনত্ব, বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও সরু সড়ক পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করেছে।
ভূমিকম্প গবেষকদের আশঙ্কা, সামনে রিখটার স্কেলে ৮.২ থেকে ৯ মাত্রার একটি বড় ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা রাজধানীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞ মেহেদি আহমেদ আনসারীর মতে, বিল্ডিং কোড মানা না হলে ক্ষয়ক্ষতি স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে।
এদিকে সিলেট বারবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছে। ভারতের মেঘালয়ের ডাউকি ফল্ট ও স্থানীয় ফল্টগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠায় অঞ্চলটি এখন ‘ডেঞ্জার জোনে’। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাত্র ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও সিলেটের পুরোনো ভবনগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে। ১৮৯৭ সালের ‘বড় ভুইছাল’-এর মতো পরিস্থিতি ফিরে আসার শঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।
চট্টগ্রামেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। নগরের ৩ লাখ ৮২ হাজার ভবনের মধ্যে প্রায় ৭০–৭৫ শতাংশই বড় ভূমিকম্পে গুঁড়িয়ে যেতে পারে। ভূমিকম্প প্রতিরোধী ব্যবস্থা না থাকা, অবকাঠামোর দুর্বলতা এবং সরু সড়ক ভবনধসের পর উদ্ধারকাজ আরও কঠিন করে তুলবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৭.৫ মাত্রা বা তার বেশি ভূমিকম্পে চট্টগ্রামের বন্দর, ইস্টার্ন রিফাইনারি ও বড় স্থাপনাগুলোও ঝুঁকিতে পড়বে।
দেশের তিন নগরীর ঝুঁকি বিবেচনায় এখনই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা, বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে প্রয়োগ করা এবং বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।



















