বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত ও শক্তিশালী হয়ে বর্তমানে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে তীব্র বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশের চার প্রধান সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এই জরুরি তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এই স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী কয়েকদিন মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে, যার ফলে দেশের বেশ কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা ও তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে。
২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণাঞ্চল ও সিলেটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি
আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের সর্বশেষ গাণিতিক মডেল ও তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। এই বন্যা পরিস্থিতির ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চলগুলোর বিস্তৃতি নিচে দেওয়া হলো:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চল: আগামী তিন দিনের মধ্যে বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী ও খাগড়াছড়ির নদীসংলগ্ন নিচু ও নিম্নাঞ্চলের কিছু অংশ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- উপকূলীয় সমতল: একই সময়ে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নিচু এলাকাগুলোতেও সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
- সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ: দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলেও আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সাময়িক প্লাবনের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলে তিস্তার পানি বৃদ্ধির সতর্কতা ও জেলেদের নিরাপদ আশ্রয়ের নির্দেশ
দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও সিলেট বিভাগের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলেও নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদী তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলোতে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
এদিকে সাগরে সৃষ্ট এই স্থল নিম্নচাপ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপকূলীয় এলাকার মাছ ধরার সব ধরনের নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গভীর সাগরে তীব্র ঢেউ ও ঝড়ো হাওয়া থাকায় জেলেদেরকে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া গভীর সাগরে বিচরণ না করতে কঠোর অনুরোধ জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।



















