রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার তালতলা সপ্তপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি বরাদ্দে নির্মিত একটি একাডেমিক ভবন এখন এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রায় চার বছর আগে দুই তলাবিশিষ্ট এই ভবনটি নির্মাণে রাজবাড়ী জেলা পরিষদ ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে মোট ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হলেও, অবাক করার বিষয় হলো—দোতলায় ওঠার জন্য কোনো সিঁড়ি রাখা হয়নি। ফলে দোতলার শ্রেণিকক্ষগুলো চার বছর ধরে অকার্যকর পড়ে আছে, আর নিচতলায় গাদাগাদি করে পাঠদান করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
শ্রেণিকক্ষ সংকটে ব্যাহত পাঠদান বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় নিচতলার কক্ষগুলোতে অস্থায়ী পার্টিশন দিয়ে একাধিক শ্রেণির পাঠদান চালানো হচ্ছে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী—উভয় পক্ষই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, দোতলায় সুন্দর কক্ষ থাকা সত্ত্বেও সিঁড়ি না থাকায় তারা সেগুলো ব্যবহার করতে পারছে না। শুধু ভবনের সমস্যাই নয়, বিদ্যালয়ে সুপেয় পানির অভাব এবং খেলার মাঠ নিচু হওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা ও বিনোদনের পরিবেশকে নষ্ট করছে।
কর্তৃপক্ষের আশ্বাস বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু কৃষ্ণ বন্ধু রায় এই অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নজরে আসার পর বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিঁড়ি নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয়দের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের সঠিক তদারকি না হওয়ায় সরকারি অর্থের এমন অপচয় ও জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সারা দেশে রাষ্ট্র সংস্কার ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতের কাজ চলছে, তখন একটি স্কুল ভবনে সিঁড়ি না থাকার মতো ঘটনা নীতি নির্ধারকদের জন্য একটি বড় প্রশ্ন চিহ্ন। একদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেইজিংয়ে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন, অন্যদিকে তৃণমূল পর্যায়ে এমন অদ্ভুত গাফিলতি শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করছে।


















