রবিবার , ১২ জুলাই ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

জলাবদ্ধতায় মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ১২, ২০২৬ ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

দেশজুড়ে টানা অতিভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা এবং দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রবিবার (১২ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্ম জুম (Zoom)-এর মাধ্যমে আটটি বিভাগের মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি পর্যালোচনা সভায় তিনি এই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন। সভায় দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও সিভিল সার্জনসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই চরম মানবিক সংকটে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অলসতা করা চলবে না।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেশের সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষাই প্রশাসনের এক নম্বর ও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বোতলজাত বিশুদ্ধ পানি, শিশুখাদ্য ও প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ওষুধ পৌঁছে দিতে হবে। বর্তমানে সচল থাকা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর সার্বিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি নির্দেশ দেন যে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত স্যানিটেশন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতে হবে। বিশেষ করে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা নারী, শিশু, প্রবীণ এবং গর্ভবতী নারীদের বিশেষ নিরাপত্তা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জেলাভিত্তিক সর্বশেষ বন্যা পরিস্থিতি

ত্রাণ কার্যক্রমে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সার্বক্ষণিক সতর্ক পাহারায় থাকার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “দুর্যোগের এই কঠিন সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি, নিত্যপণ্যের অবৈধ মজুতদারি কিংবা অসহায় মানুষের ত্রাণ আত্মসাতের মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে।” তিনি ত্রাণ বিতরণে শতভাগ জবাবদিহি নিশ্চিত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ দেন।

বিভাগীয় অঞ্চলমাঠ প্রশাসনের দেওয়া সর্বশেষ পরিস্থিতি খতিয়ান (১২ জুলাই, ২০২৬)প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
চট্টগ্রাম বিভাগপাহাড়ি ঢল কমায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।আশ্রয়কেন্দ্রে স্যানিটেশন ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা।
সিলেট বিভাগমনু নদের প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।বাঁধ মেরামতে জরুরি জনবল নিয়োগ ও নদী তীরবর্তী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো।
রংপুর বিভাগনতুন করে বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।আগাম সতর্কতা জারি ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা।

ভার্চ্যুয়াল এই সভায় চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার সর্বশেষ মাঠপর্যায়ের চিত্র প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রামে পানি কিছুটা নামতে শুরু করলেও সিলেট অঞ্চলে মনু নদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় মাঠ প্রশাসনকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ, উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং সমন্বিতভাবে দুর্গত মানুষের পাশে থাকার জন্য নির্দেশ দিয়ে সভা সমাপ্ত করেন।

সর্বশেষ - অপরাধ