প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ‘বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ’কে সরকারীকরণের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার বেলা তিনটার দিকে কলেজ মাঠে আয়োজিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের পাইলটিংয়ের দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাঁর সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের ৪ কোটি পরিবারের মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। বক্তৃতার এক পর্যায়ে ১০ জন নারীর হাতে প্রতীকী ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ৯১১ জন নারীর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পৌঁছে দেন তিনি। এছাড়া কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি পুনব্যক্ত করেন এবং জানান যে সরকার ইতিমধ্যে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফ করেছে।
বক্তব্য চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী এলাকাবাসীর সঙ্গে বেশ সাবলীল ও রসিকতাপূর্ণ মেজাজে কথা বলেন। দীর্ঘ সময় বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানালে তিনি হাসিমুখে নিজের ক্ষুধা ও ব্যস্ততার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “বাপের বাড়িতে খেতে দিবেন না? নামাজ বাকি, খাওয়া বাকি, খাল কাটা বাকি… আসব আবার, কথা বলব।” স্থানীয়দের বাগবাড়ীকে উপজেলা ঘোষণার দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও দেশের সীমিত সম্পদের সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার জন্মস্থান হিসেবে এই এলাকার প্রতি যেমন তাঁর হক আছে, তেমনি সারা দেশের মানুষের অধিকারের কথাও তাঁকে ভাবতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বাগবাড়ী গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ‘চৌকিরদহ খালের’ খনন কাজের উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি ও ডা. জুবাইদা রহমান তাঁদের পৈতৃক ভিটা ‘জিয়াবাড়ি’ পরিদর্শন করেন। সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে তিনি বগুড়া শহরে ফিরে বিকেল পাঁচটায় ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো গাবতলী ও বাগবাড়ী এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।


















