মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে এক উদ্বেগজনক পূর্বাভাস দিয়েছে শীর্ষ বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান (JPMorgan)। প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ নোটে জানানো হয়েছে, বর্তমান অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
জেপি মরগানের বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাসের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. তেলের দামের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা
বিনিয়োগ ব্যাংকটির মতে, তেলের বাজারের বর্তমান গতিপ্রকৃতি নির্দেশ করছে যে দাম খুব শীঘ্রই ১২০ থেকে ১৩০ ডলার স্পর্শ করবে। তবে বিপদের মাত্রা আরও গভীর:
- চরম পূর্বাভাস: যদি হরমুজ প্রণালীর এই সরবরাহ বিঘ্ন মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তবে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।
- স্বল্পমেয়াদী স্থিতি: ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক (জুন মাস) পর্যন্ত তেলের দাম গড়ে ১০০ ডলারের উপরেই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২. বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি
জেপি মরগান সতর্ক করেছে যে, তেলের এই অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য কেবল জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না:
- চাহিদা হ্রাস: দীর্ঘ সময় তেলের দাম চড়া থাকলে বিশ্বজুড়ে পণ্য ও সেবার চাহিদা নাটকীয়ভাবে কমে যাবে।
- মন্দার পূর্বাভাস: উচ্চমূল্যের প্রভাবে উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত একটি বৈশ্বিক মন্দা (Global Recession) শুরু হতে পারে।
৩. সমাধানের পথ ও রাজনৈতিক প্রভাব
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই সংকটের একমাত্র সমাধান হলো কূটনৈতিক আলোচনা। তবে সেই সমাধান আসার আগ পর্যন্ত মজুত কমে যাওয়া এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে বাজার অস্থিতিশীল থাকবে।
- ট্রাম্পের প্রভাব: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং ইরানে হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণার ফলে গত বৃহস্পতিবার থেকে বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।
- আশার আলো: বছরের শেষার্ধে যদি প্রণালীটি আংশিকভাবেও খুলে দেওয়া হয়, তবেই দাম পুনরায় স্বাভাবিক পর্যায়ে নামতে শুরু করবে।
৪. বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রভাব
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য দ্বিমুখী সংকটের কারণ হতে পারে:
- পরিবহন ও কৃষি: তেলের দাম বাড়লে সরাসরি বাস-ট্রাক ভাড়া এবং সেচ খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- মুদ্রাস্ফীতি: আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও এক দফা বাড়তে পারে।
তবে আজ সকালেই চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানিবাহী জাহাজ পৌঁছানোর খবর এবং মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা তেলের বাজারকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে পারে। আগামীকালের ইসলামাবাদ বৈঠকের ওপর এখন পুরো বিশ্বের নজর।
সূত্র: রয়টার্স।


















