ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত বিশ্ববাজারে তেলের দামকে আকাশচুম্বী করে তুলেছে, যা মূলত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য এক বিশাল অর্থনৈতিক আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। কিয়েভ স্কুল অব ইকোনমিকস (কেএসই) ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, এই যুদ্ধের প্রভাবে রাশিয়া প্রতিদিন তেল ও গ্যাস রপ্তানি থেকে প্রায় ৭৬০ মিলিয়ন ডলার আয় করছে। দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি মার্চ মাসে রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রির আয় গত মাসের ১২ বিলিয়ন ডলার থেকে দ্বিগুণ হয়ে ২৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
রাশিয়ার এই অভাবনীয় অর্থনৈতিক মুনাফার মূল কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
- তেলের উচ্চমূল্য: হরমুজ প্রণালিতে অস্থিতিশীলতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৩৮ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
- ভারত ও চীনের বাজারে আধিপত্য: ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞায় কিছুটা শিথিলতা থাকায় রাশিয়া নির্বিঘ্নে ভারত ও চীনের কাছে চড়া দামে তেল বিক্রি করছে। ভর্টেক্সার তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি ৭২ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে।
- আয়ের প্রাক্কলন: যদি এই যুদ্ধ এপ্রিলের মধ্যে শেষ হয়, তবে এ বছর রাশিয়ার জ্বালানি আয় হবে প্রায় ২১ আগস্ট ২১৮.৫ বিলিয়ন ডলার। তবে যুদ্ধ যদি ৬ মাস স্থায়ী হয়, তবে এই আয় ৩৮৬.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ১৮৮ শতাংশ বেশি।
- অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি: নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ সাইমন জনসনের মতে, এই অতিরিক্ত মুনাফা পুতিন তাঁর দেশের ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন, যা রাশিয়ার যুদ্ধকালীন অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়ালেও রাশিয়ার কোষাগারকে অভাবনীয়ভাবে সমৃদ্ধ করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান কৌশল রাশিয়ার এই আয় কমানোর পরিবর্তে বরং বাড়াতে সহায়তা করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



















