রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রবিবার (১২ এপ্রিল, ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত ও মামলার কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
১. আদালতের শুনানি ও জামিন
আজকের শুনানিতে আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো ছিল:
- উপস্থিতি: নিরাপত্তাজনিত কারণে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আজ সশরীরে আদালতে হাজির করা হয়নি। তাঁর অনুপস্থিতিতেই আইনজীবীরা জামিনের সওয়াল-জবাব করেন।
- আইনজীবীদের যুক্তি: আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেখান যে, সংশ্লিষ্ট সহিংস ঘটনার সাথে ড. শিরীন শারমিনের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই এবং তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।
- আদেশ: উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন গ্রহণ করেন।
২. মামলার প্রেক্ষাপট
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর লালবাগ এলাকায় সংঘটিত সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনায় এই হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।
- গ্রেপ্তার: গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
- পূর্ববর্তী আদেশ: গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করেছিল। গত মঙ্গলবার আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। আজ পাঁচ দিন কারাভোগের পর তিনি জামিন পেলেন।
৩. রাজনৈতিক গুরুত্ব
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জাতীয় সংসদের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। জুলাই-আগস্টের ছাত্র গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতার মতো তিনিও আইনি জটিলতার সম্মুখীন হন।
আজকের এই জামিন আদেশের পর তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাধারণত অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো না থাকলে তিনি আজই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন।



















